Tuesday, March 3, 2009

post

"লোকে বলে দুঃখ ছাড়া সুখ মেলে না
এক জীবনে সুখী হয় বল ক'জনা।"

গাড়িতে প্যাসেন্জ্ঞার সীটে বসে এক মনে গানটা শুনতে শুনতে আচমকা নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে আমার। একমনে তাকিয়ে থাকি দিগন্তের পানে, যতদূরে চোখ যায়। পথের ক্লান্তি আমায় আরো বেশী একা করে দেয়। ভাবনার গহীন সাগরে মন্থন করে নিজেকে নিজে হরেক রকম প্রশ্ন করতে থাকি। অব্যহত ব্যর্থতায় ভারাক্রান্ত এই আমার মন কি কখনও সুখের ছোয়া দেখবে? সুখের কি কোন রং আছে? নীল, অথবা সাদা। অথবা পাখির নরম পালকের মত প্রশান্তিময় কোন চাওয়া যা মনকে স্থির মৌন আনন্দে অবগাহিত করে?

আনমনে ভাবতে ভাবতে কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়। পাশে ড্রাইভিং সীটে আমার কর্তা বোধকরি আমার নীরবতা দেখে বিরক্ত হন। আমার এই অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়া তার বরাবর অপছন্দের একটি বিষয়। এতদিনেও অভ্যস্ত হয় নি। তবে আজ একটু বেশীই অসহিষ্ণু। আমার মনোযোগ আকর্ষনের মোক্ষম অস্ত্র ছুড়ে দিল।

"জানো, ছেলের পরীক্ষার রেজাল্ট এসেছে।"

আমার নীরবতা ভেংগে যায়। ফিরে তাকাই, "জানি না। কি হয়েছে।"

"এবার অংকে আগের মত এত ভাল করে নি। তবে ইংরেজীতে ভাল করেছে।"

"প্রোগ্রামে কোয়ালিফাই করবে?"

"হ্যা। দুটোতেই।"

আনণ্দে আমার চোখে জল চলে আসে। কত দিনের সাধনা। গত দুই বারের কোনবারই সে ইংরেজীতে কোয়ালিফাই করেনি। আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম প্রায়। এবার শেষ পর্যন্ত টিকলো। অথচ এবার সে স্কুলে না গিয়ে আমার কাছে পড়ছে।

যে প্রোগ্রামে যাবে সে প্রোগামটা বেশ প্রেসটিজিয়াস। প্রশ্ন থাকে দুই গ্রেড উপরের লেভেলের। অর্থাৎ ক্লাস সিক্সের পরীক্ষা হলে ক্লাস এইটের প্রশ্ন থাকবে। আমাদের এলাকায় মাত্র একজন ছেলে এই প্রোগ্রামে টিকেছে। সে আবার তার নিজের স্কুলে ম্যাগনেট প্রোগ্রামে আছে।

মুহুর্তে আমার মন আনন্দে ভরে যায়। এ যে কতবড় স্বপ্ন পূরন। ভুলে যাই এই মুহুর্ত ক্ষন আগেই আমার ভিতরটায় ছিল এক মরুদুপুরের কাঠ ফাটা রৌদ্র। চৈত্রের কাঠফাটা দুপরে যেন শান্তির বারতা নিয়ে এল এক লহমা বৃষ্টি। সে বৃষ্টিতে যেন আবারো সতেজ হল মৃতপ্রায় বনানী, ফিরে পেল সবুজ রং।

এই আনন্দের রেশ নিয়ে এখনও আছি। সময় যাতে আজকের এই মুহুর্তক্ষনের সুখানুভূতিকে কেড়ে নিতে না পারে। ম্লান না করতে পারে এই সুখময় স্মৃতিকে। তাই ব্লগের পাতায় এই ক্ষনটুকুর চিহ্ন রাখতে চাইলাম,

"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে
মোর টগবগিয়ে খুন হাসে।

আজকে আমার রুদ্ধ প্রানের পল্ললে
বান ডেকে ঐ আসল জোয়ার
দুয়ার ভাংগা কল্লোলে।"