Sunday, April 25, 2010

শুভ পাই দিবস ও আর্কিমেডিস

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/irinblog_1268582577_1-220px-Pi_pie2.jpg]


আজ মার্চের চৌদ্দ তারিখ। পাইয়ের মান ৩ দশমিক ১৪। ৩ হল মার্চ আর চৌদ্দ হল তারিখ। তাই মার্চের চৌদ্দকে "পাই দিবস" ডাকা হয়।

অনেকেই পাইয়ের মান বের করেন, তবে আর্কিমিডিসের পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় হয়। তিনি তার বই "Measurement of a Circle" এ প্রমান করেন:

[si][sb]বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত (যা পাইয়ের সংজ্ঞা) ২২/৭ এর চেয়ে কম, কিন্তু ২২৩/৭১ এর চেয়ে বেশী। [/sb][/si]

আর্কিমিডিসের এই পাইয়ের মান নির্নয়, পাইয়ের প্রকৃত মানের খুব কাছাকাছি। আর্কিমিডিসের এই পদ্ধতি পাওয়া যাবে এখানে: http://itech.fgcu.edu/faculty/clindsey/mhf4404/archimedes/archimedes.html

যুগ শ্রেষ্ঠ গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস সিসিলিতে জন্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন মিশরের আলেকজান্ড্রিয়াতে। ধারনা করা হয়, সেসময় আলকজানড্রিয়াতে পড়াতেন আরেকজন স্বনামধন্য গ্রীক বিজ্ঞানী ইউক্লিড (আনুমানিক ৩০০ খ্রীষ্টপূর্ব শতক)। আর্কিমেডিস তার কাছে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতের আর্কিমেডিস তার বৈজ্ঞানিক অবদানের ক্ষেত্রে শিক্ষককে ছাড়িয়ে যান। http://www.historyworld.net/wrldhis/PlainTextHistories.asp?historyid=aa03

আর্কিমিডিস বিখ্যাত হয়েছেন তার প্লবতা সূত্রের কারনে। রাজা হিরন একটি মুকুট নিয়ে সন্দেহ করেন যে, স্বর্নকার এতে ভেজাল মিশিয়েছে। আর্কিমিডিসকে এর তদন্তের দায়িত্ব দেন। আর্কিমিডিস গোসল করতে গিয়ে দেখেন তিনি নামলেই পানি উঠে যায়। অবশেষে তিনি প্রমান করলেন, যেটুকু পানি বেড়ে যায় তা আসলে বস্তুর হারানো ওজনের সমান। এমনি করে তিনি দেখালেন যে, প্রকৃত সোনার তৈরী মুকুট আরো বেশী ওজনের হবে। তাই রাজার অনুমান সঠিক এবং মুকুটটি ভেজাল যুক্ত।

আর্কিমেডিস তার শহর সিরাক্রুসকে রোমানদের হাত থেকে দখল মুক্ত রাখার জন্য আয়নার বিভিন্ন ব্যবহার দিয়ে আগত শত্রু জাহাজকে সূর্যের আলোয় পুড়িয়ে দেয়া সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল আবিষ্কার করেন। এভাবে তিনটি বছর রোমানদের হাত থেকে নিজের শহরকে রক্ষা করেন। ৭০ বছর বয়েসী গ্রীক বিজ্ঞানীর এই আবিষ্কার রোমান সৈন্যদের ধাধায় ফেলে দেয় রীতিমত।


নীচে সেই বার্নিং মিররের ছবিটি দেয়া হল"


আর্কিমেডিস বার্নিং মিরর ফিট করছেন।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/irinblog_1268751615_3-Archimedes_and_burning_mirror.jpg]

ছবি কৃতজ্ঞতা:
http://www.daviddarling.info/encyclopedia/A/Archimedes_and_the_burning_mirrors.html


বার্নিং মিরর শত্রু জাহাজকে আঘাত হানছে।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/irinblog_1268750784_2-archimedesmirror.jpg]

ছবি কৃতজ্ঞতা: http://www.cs.drexel.edu/~crorres/Archimedes/Mirrors/Tzetzes.html


জোয়ানেস জোনারাস, ১২ শত শতকের একজন বাইজেনন্টাইন ইতিহাসবিদ, তিনি লিখেন:

[si]"শেষে, অবিশ্বাস্য উপায়ে তিনি পুরো রোমান জাহাজকে পুড়িয়ে দিলেন। একধরনের আয়নায় তিনি বায়ুকে উত্তপ্ত করলেন এবং বড় শিখা জ্বালালেন। যা তিনি জাহাজের দিকে তাক করলেন, পুরোটা পুড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত। "[/si]


আর্কিমিডিস নিহত হন রোমান সৈন্যের হাতে। রোমানরা গ্রীস দখল করার পরে আর্কিমিডিসকে সারেন্ডার করতে বলে। আর্কিমিডিস তখন বালুতে বৃত্ত একে থিওরি প্রমানের চেষ্টায় রত। তিনি সৈন্যটির দিকে তার তরবারী তাক করে বললেন, আগে তিনি তার থিওরেম প্রমান করবেন, পরে সারেন্ডার করবেন। সৈন্যটি এতে ক্ষিপ্ত হয় এবং আর্কিমিডিসকে হত্যা করে।

শুভ পাই দিবসে সবার জন্য শুভেচ্ছা।



ষ্ট্যান্ডার্ড বলেছেন:
অবশেষে তিনি প্রমান করলেন, যেটুকু পানি বেড়ে যায় তা আসলে বস্তুর ওজনের সমান। এমনি করে মুকুটের ওজন বের করলেন এবং দেখালেন যে, প্রকৃত সোনার তৈরী মুকুট আরো বেশী ওজনের হবে
===============================
এখানে একটু ভুল বলেছেন। কোন বস্তু পানিতে ডুবালে তার সমপরিমাণ আয়তনের পানি অপসারিত হয়, ওজন নয়। আর আসল সোনার ওজন আর মুকুটের ওজনের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটাও ভুল।

মুকুটটি পানিতে ডুবালে যে পরিমাণ পানি অপসারিত হয় সেটা ঐ মুকুটের আয়তনের সমান। এখন মুকুটটির মোট ভরকে (আমরা যেটাকে ওজন বলে জানি) তার আয়তন দিয়ে ভাগ দিলে মুকুটের ঘনত্ব বের হবে। মুকুটের মধ্যে যদি কোন ভেজাল (সোনার থেকে অন্য ঘনত্বের বস্তু) দেয়া থাকে তাহলে মুকুটের ঘনত্ব খাঁটি সোনার ঘনত্ব থেকে আলাদা হবে। এভাবেই আর্কিমেডিস মুকুটটি না গলিয়ে ওর মধ্যের ভেজাল প্রমাণ করেছিলেন। আসলে ওখানে চ্যালেন্জিং পার্টটা ছিল অসমান সারফেসের মুকুটটির আয়তন বের করা। চৌবাচ্চায় গোসলের সময় এটাই উনি আবিষ্কার করেছিলেন।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

আপনার জবাবটি লিখুন




১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:৪৬
লেখক বলেছেন: আমার আসলেই ভুল হয়েছে। তবে আয়তন/ওজন নিয়ে নয়, বরং একটি শব্দের। শুদ্ধ বাক্যটি হবে, "অবশেষে তিনি প্রমান করলেন, যেটুকু পানি বেড়ে যায় তা আসলে বস্তুর হারানো ওজনের সমান।" "হারানো" শব্দটি খুব গুরুত্ব বহ। আর্কিমেডিস দেখলেন পানিতে তার ওজন কম লাগে। কোথায় গেল বাকী ওজন? চিন্তা করে বের করলেন, হারানো ওজন হল প্লবতা বল, যা অপসারিত তরলের ওজনের সমান।

Archimedes Principle: "When a solid body is partially or completely immersed in water, the apparent loss in weight will be equal to the weight of the displaced liquid."

আর তিনি প্লবতা বলের সমীকরন দিলেন, যা হল:

F(buoyant) = -pVg

p = density of the fluid
V = volume of the object being submerged
g = standard gravity on Earth (~ 9.81 N/kg)

http://www.ehow.com/how_2101130_calculate-buoyancy.html
http://www.grandpapencil.net/science/archimed.htm

আর্কিমেডিস বললেন, প্লবতা বল অপসারিত পানির ওজনের সমান। সমীকরনের দুই পাশে বসালে "মুকুটটি পানিতে ডুবালে যে পরিমাণ পানি অপসারিত হয় সেটা ঐ মুকুটের আয়তনের সমান" বাক্যটি সত্য হয়ে যায়।

তবে আর্কিমেডিস কি উপায়ে নির্নয় করেছিলেন, মুকুটটি খাদ যুক্ত?

একটি হতে পারে তিনি মুকুটের আয়তন বের করেছিলেন অপসারিত পানির আয়তন থেকে। তারপর বাতাসে নেন মুকুটের ভর এবং বের করেন ঘনত্ব, এবং দেখান যে তা সোনার প্রকৃত ঘনত্বের চেয়ে কম। যা আপনার উপরে উল্লিখিত পদ্ধতি।

কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তিনি একটু অন্যভাবে বিষয়টি বের করেন। তিনি মুকুটের সম ওজনের প্রকৃত সোনার বার নেন। পানিতে ডুবান। মুকুট নেন ও পানিতে ডুবান। এবং দেখান যে মুকুট আসলে বেশী পানি অপসারন করছে। প্রকৃত সোনার বার ততটা করছে না। মুকুটটি প্রকৃতই সোনার হলে এই মুকুট আরো কম পানি অপসারন করত। অর্থ্যাৎ এই মুকুট তার আয়তনের সমানুপাতিক ভারী নয়।

http://www.cs.drexel.edu/~crorres/Archimedes/Crown/CrownIntro.html

উপরের বর্ননাটি আসে একজন রোমান আর্কিটেক্ট ভিট্রোভিয়াসের থেকে।


The solution which occurred when he stepped into his bath and caused it to overflow was to put a weight of gold equal to the crown, and known to be pure, into a bowl which was filled with water to the brim. Then the gold would be removed and the king’s crown put in, in its place. An alloy of lighter silver would increase the bulk of the crown and cause the bowl to overflow.


কে জানে কোনটা ঠিক।

আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

রোহিঙ্গা: অবহেলিত, নির্যাতিত তবু অপরাজিত এক জনপদ

[সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বেশ কঠোর মনোভাব দেখিয়ে কিছু রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মায়ানমার ফেরত পাঠায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যা আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে। তার সূত্র ধরে এই লেখাটিতে বিদ্যমান রোহিঙ্গা সমস্যার কিছু দিক ফুটিয়ে তোলা আমার উদ্দেশ্য। ]

[sb]রোহিঙ্গা ইস্যু: সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ[/sb]

প্রথমেই আসুন দেখি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে কিভাবে এসেছে। নীচে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে অল্প কিছু অংশ দেয়া হল। পুরোটা পড়তে চাইলে সাথের লিংকে ক্লিক করুন।

১। রয়টার্স:

যেসব দেশবিহীন রোহিঙ্গা শরনার্থীরা তাদের নিজের দেশ মায়ানমারের শোষন থেকে মুক্তির জন্য প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদেরকে পিটিয়ে সেখান থেকে আবার ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র ভেংগে দিয়েছে এবং জোরপূর্বক বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন রিসার্চার ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, "গত ত্রিশ বছর ধরে রোহিংগারা বাংলাদেশে নানা রকম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের আচরনে এটা স্পষ্ট যে তাদের কাছে রোহিংগারা অনাকাংখিত।" রয়টার্স সংবাদটি প্রকাশ করে "Rohingyas reported beaten, evicted in Bangladesh" ("বাংলাদেশে রোহিংগারা প্রহৃত এবং বহিষ্কৃত") শিরোনামে।
http://www.reuters.com/article/idUSSGE61I066

২। নিউ ইয়র্ক টাইমস:

নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে দুটি আর্টিক্যালের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। প্রথমটি ফেব্রুয়ারী ২০ তারিখের এবং দ্বিতীয়টি মার্চের ১৩ তারিখের।

"বার্মিজ রিফিউজিস পারসেকিউটেড ইন বাংলাদেশ" শিরোনামে ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগা শরনার্থীদের উপর নির্যাতনের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়। গত এক মাসে শুধু কক্স বাজারেই শত শত রেজিস্ট্রেশন বিহীন রোহিংগাদের গ্রেপ্তার করে হয় বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়, নতুবা ইমিগ্রেশন আইনে জেলে ভরা হয়। রোহিংগাদের উপরে ডাকাতি, হামলা এবং ধর্ষন খুব বেড়ে গিয়েছে। অপুষ্টি এবং মৃত্যুহার সমস্ত সীমা পেরিয়েছে । এই জনবহুল ক্যাম্প রোগের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। রোহিংগারা এটা জানে যে, তারা সমাজের সবচেয়ে নীচের স্তরের মানুষ এবং তারা সব জায়গাতেই অনাকাংখিত। সর্বত্রই তারা নিরাপত্তাবিহীন এবং অধিকারহীন বহিরাগত মাত্র। ৬৯ বছরের আবদুল বলেন, "যদি বনের কোন প্রানীকে হত্যা করা হয় তবে তা হয় বেআইনী এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কিন্তু মানুষ হয়েও আমরা তার যোগ্য নই। আমরা তো পশুদের চেয়েও নিকৃষ্ট।" http://www.nytimes.com/2010/02/21/world/asia/21bangladesh.html?scp=2&sq=rohingyas&st=cse


দ্বিতীয় লেখাটি "মায়ানমার রিফিউজিস ফেস গ্রিম ফিউচার ইন বাংলাদেশ", প্রকাশকাল ১৩ই মার্চ। যাতে আবারও রাহিংগাদের দুরবস্থার প্রতিধ্বনি করা হয়। কুটুপালং এর দিলদার বেগম স্বামীর গ্রেপ্তারের পর থেকে পাচ সন্তান নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। "আমার এবং আমার সন্তানদের মৃত্যু হলে ভাল হয়।" - পচিশ বছর বয়েসী এই নারী এভাবেই আক্ষেপ করলেন। মুসলিম হবার কারনে তারা বৌদ্ধ মায়ানমারে অনাকাংখিত। অন্যদিকে বিদেশী হবার কারনে তারা বাংলাদেশে অনাকাংখিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ রোহিংগাদের উপরে বেশ কঠোর হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করেছে এবং দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সীমান্তে বসিয়েছে অতিরিক্ত প্রহরা। সাথে সাথে এইড গ্রুপগুলোকে খাদ্য সাহায্য বিতরনে সতর্ক করেছে যাতে রোহিংগারা এদেশে আসতে উৎসাহিত না হয়। খাদ্য সাহায্য কমে যাওয়ায় রোহিংগারা অভূক্ত থাকছে। http://www.nytimes.com/aponline/2010/03/13/world/AP-AS-Bangladesh-Myanmar-Refugees.html?_r=1&scp=1&sq=Bangladesh rohingyas&st=cse

৩। ইসলাম অনলাইন:

বাংলাদেশে পুলিশ রোহিংগাদের নদী সাতরে মায়ানমারে ফিরতে বাধ্য করছে বলে ইসলাম অনলাইনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। "রোহিংগা'স টেস্ট বাংলাদেশ এবিউস" লেখাটিতে রোহিংগারা বাংলাদেশে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে দাবী করা হয়। বাংলাদেশে ধুকে ধুকে মরাই যেন তাদের নিয়তি।
http://www.islamonline.net/servlet/Satellite?c=Article_C&cid=1265890528735&pagename=Zone-English-News/NWELayout

৪। আল জাজিরা:

"রোহিংগা ক্রাকডাউন ইন বাংলাদেশ" লেখায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগারা প্রচুর সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে রোহিংগারা পৃথিবীর সবচাইতে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনপদের একটি। নির্যাতনের ফলে মায়ানমারের উত্তর রাখাইন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিংগা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২২০,০০০ রোহিংগা বাস করছে। http://english.aljazeera.net/news/asia/2010/02/20102185194229798.html

৫। টাইম:

"ফর রোহিঙ্গা ইন বাংলাদেশ, নো প্লেস ইস হোম" শিরোনামের রিপোর্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে কুটু পালং ক্যাম্পে রোহিংগাদের উপরে নৃশংস ক্রাক ডাউন চলছে। তেইশ বছর বয়েসী জিয়াউর রহমান বলেন, "সীমান্ত রক্ষীরা আমার আংগুল ভেংগে দেয় এবং আমাকে নদীতে ফেলে দেয়। এবং বলে সাতরে ফেরত যেতে।" .....। স্থানীয় বাংলাদেশীদের সাথে রোহিংগাদের সম্পর্ক শীতল। চলছে কাজের প্রতিযোগিতা, যেখানে রোহিংগারা কম মজুরীতে কাজ করতে রাজী। আবার কেউ কেউ আশংকা করছেন জংগী গ্রুপগুলো এই নির্যাতিত এবং নেতাশূন্য জনপদকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেবে। http://www.time.com/time/world/article/0,8599,1966621,00.html

৬। এএফপি:

"মায়ানমার রিফিউজিস স্টার্ভ টু ডেথ ইন বাংলাদেশ" লেখায় বাংলাদেশে রোহিংগাদের করুন অবস্থা বর্ননা করা হয়। হাইতির বিশাল ভূমিকম্পের পরে যেখানে শিশু অপুষ্টির হার শতকরা ছয় ভাগ, সেখানে রোহিংগা ক্যাম্পে তা ১৮ দশমিক ২ ভাগ। জাতিসংঘ কর্তৃক সবচেয়ে নির্যাতিত হিসেবে চিহ্নিত এই জন গোষ্ঠীর উপরে পুলিশ চড়াও হয়ে জেল বহিষ্কার সহ যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে তা সুষ্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন।

(http://www.google.com/hostednews/afp/article/ALeqM5j7IVJH5NaPtabx4ZJCgmuwODpXOg )

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/irinblog_1270347439_2-forusintlreligiousfreedomreport2008_400.jpg]


[sb]ডেইলী স্টার ও ব্যাংকক পোস্টের প্রতিক্রিয়া:[/sb]

আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগাদের উপরে নির্যাতনের খবর প্রকাশ হবার পরে এ প্রেক্ষিতে ডেইলী স্টার মার্চের ২৮ তারিখে এই বিষয়ের উপরে একটি লেখা ছাপে [১০]। যেখানে রোহিংগাদের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার কিছু চিত্র স্থান পায়। সৌদি আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গারা কি করে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন করছে, তার কিছু বর্ননা সমৃদ্ধ লেখা। লেখাটিতে যদিও রোহিংগাদের উপর নির্যাতনকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, তবুও তা একপেশে এবং অসম্পূর্ন। রিপোর্টের একটি অংশের সাথেই শুধু একমত হওয়া যায়। তা হল, রোহিংগারা বার্মার সন্তান এবং বার্মাকেই বাধ্য করতে হবে সে দায় নেবার জন্যে। অনেক অংশ, যেমন - [si]রোহিংগারা সৌদি আরবে ক্রাইমের সাথে জড়িত, সে দায় বাংলাদেশ কেন নেবে [/si]- সত্য হলেও রোহিংগাদের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের ঠিক সেভাবে দায়ী করা যায় না। একটি জনগোষ্ঠীর সমস্ত অধিকার অস্বীকার করে তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করা যায় না। এছাড়া রিফিউজিরা সব দেশেই এরকম সমস্যা তৈরী করে থাকে। বরং সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো উচিত ছিল। খাপছাড়া ভাবে সেসব কথা যে আসেনি তা নয়, তবে সামগ্রিক মূল ভাব সেরকমটি ছিলনা। বরং মূল বক্তব্য হচ্ছে দায় কাটানো। রিপোর্টের যে লাইন গুলো সবচেয়ে বিরক্তিকর তা হল:

[si]Ironically, the MSF report on persecution of Rohingyas in Bangladesh was released on the day when the Prothom Alo carried the report on involvement of Rohingyas in criminal activities in Saudi Arabia. The MSF report has also been uploaded onto some websites in a bid to generate sympathy for Rohingya refugees[/si]

লেখকের সার কথা হল, আন্তর্জাতিক বিশ্বের এসব রিপোর্ট উদ্দেশ্য মূলক- রোহিংগাদের প্রতি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা মাত্র। অথচ, ডেইলী স্টারের রিপোর্টের কোথাও উল্লেখ নেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমের এসব রিপোর্ট আসলে "মিথ্যা"। তাহলে, ডেইলী স্টার কি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোতে রোহিঙ্গা বিষয়ক সত্য প্রকাশ হোক, তা চায় না?

এখানে উল্লেখ্য, রোহিংগা অনুপ্রবেশকারীদের যে শুধু বাংলাদেশেই প্রতিহত করা হচ্ছে, তা নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের চেয়েও অনেক বেশী নিন্দা ও সমালোচনার মুখোমুখি যে দেশ হয়েছে, তা হল থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের নয়টি ক্যাম্পে ১১১,০০০ রোহিংগা রিফিউজি বসবাস করছে। থাইল্যান্ডে গত ২০০৮ এর ডিসেম্বরে প্রায় ১০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিংগাদের সীমান্ত রক্ষীরা শারীরীক নির্যাতন করে এবং সাগরে নৌকা দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। অপ্রতুল খাবার দিয়ে তাদের নৌকার ইন্জিন কেটে দেয়। যাদের বেশীর ভাগই সাগরে ভেসে যায় এবং বাকীরা ইন্দোনেশিয়র সুমাত্রায় কিংবা ভারতের আন্দামান দ্বীপে উদ্ধার হয়। ধারনা করা হয় পাচটি নৌকার শুধু একটিই বেচে যায়। এই ঘটনা সারা বিশ্বে "থাই বোট এবিউস" নামে পরিচিতি পায়। [৯] বিশ্বের চাপের মুখে থাইল্যান্ড এই ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দেয়। একজন থাই অফিসার ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, "ইন্জিন না কাটলে ওরা আবার ফিরে আসত।" [৮] এ বিষয়ে ব্যাংকক পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে "থাই বোট এবিউস" নিয়ে সীমান্তরক্ষীদের এহেন অমানবিক আচরনের নিন্দা জানায়। সাথে সাথে এও লিখে:

[si]"অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে থাইল্যান্ডের কোন দায়বদ্ধতা নেই। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে এবং ইমিগ্রেশন প্রত্যাশীদের সেসব নীতিমালা অনুসরন করতে হবে। রোহিংগারা দক্ষিনে নিরাপত্তা সমস্যা তৈরী করে থাকে, যেখানে তারা স্থানীয় মুসলিমদের সাথে খুব সহজে মিশে সরকার ও মুসলিমদের মাঝে সম্পর্কের ফাটল তৈরী করে।" [/si]

ব্যাংকক পোস্ট রোহিংগাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সব পক্ষের অংশ গ্রহনে সমাধানের উদ্যোগের প্রতি আহ্বান জানায়। [৭]

বার্মার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মত রোহিংগারা যে বাংলাদেশের জন্যেও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে, সে বিষয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই। ভারত, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশও ১৯৫১ এর শরনার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষর করা ১৪৭ টি দেশের একটি নয়। যার ফলে শরনার্থীদের বিষয়ে বাংলাদেশের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ১৯৯১ সালের পর থেকে তাই ঢাকা একজন রোহিংগাকেও শরনার্থী হিসেবে রেজিস্টার করেনি। [৬] সেজন্যে এসব অনিবন্ধিত রোহিংগারা বাংলাদেশের মানুষের সাথে মিশে যাবার সুযোগ পাচ্ছে। যা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

[sb]রোহিংগাদের উপরে বার্মার নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস: [/sb]

বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে এত প্রতিকূলতার সম্মূখীন হলেও রোহিংগারা বার্মায় ফিরে যেতে আগ্রহী নয়। শতকের শতক ধরে চলে আসা নৃশংসতা ও নির্যাতনই এর মূল কারন, যা স্বল্প পরিসরে শেষ হবার নয়। আমি হাজারো ঘটনা থেকে উদাহরন হিসেবে অল্প কয়েকটি ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরছি।

নবম শতক থেকে আরাকান প্রদেশে (যা এখন রাখাইন নামে পরিচিত) আরব, মোগল, তুর্কী, পর্তুগীজ এবং বাঙ্গালসহ নানান বিদেশী বনিক, সৈন্য প্রমূখ বসতি স্থাপন করে । পনের শতকের দিকে এই বসতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতি গড়ে তোলে। এরাই রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।
[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/irinblog_1270588319_3-Muhghazi.jpg]

ছবি: ষোল শত শতকের আরাকানের মূদ্রা, যা বাংলার সুলতান শামস আল দীনের নামে নামাংকিত। (উইকি থেকে নেয়া)

আরাকানের এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপরে বার্মার সৈন্যদের আক্রমন ছিল খুবই সাধারন ঘটনা। ১৭৮৫ সালে প্রায় ৩০০০০ বার্মীজ সৈন্য আরাকান আক্রমন করে লাইব্রেরী, মসজিদ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে। সাথে সাথে ২০০০০ রোহিঙ্গাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। রোহিঙ্গাদের উপরে এধরনের বহু ধ্বংস লীলা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়ে যায়। এরকম একটি আক্রমনে জীবন্ত রোহিঙ্গাদের পুড়িয়ে মারার মত অমানবিক ঘটনাও ঘটে।

বার্মীজদের এ নৃশংসতা ভুলে যাবার নয়। তাই ১৮২৫ সালে বৃটিশদের স্বাগত জানায় রোহিঙ্গারা। বৃটিশ শাসনে তাদের অবস্থা অনুকূলে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বৃটিশদের অনুগত থাকে। যার জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হয়। ১৯৪২ সালে ঘটে যায় সবচেয়ে নৃশংস রোহিঙ্গা গনহত্যা। সেখানকার রাখাইন মগদের দ্বারা প্রায় ৫০০০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়। [৫] ২৮শে মার্চে শানবিলি গ্রামে শুরু হয় এই রোহিঙ্গা গনহত্যা। শানবিলির পরে এই ধ্বংস লীলা চলে লমবাইসর, রাইচাউং,পাঙ্খা গ্রামে। ১৯৪২ এর এই গনহত্যা এবং ধ্বংস লীলায় বিলুপ্ত হয় ৩০৭ টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম। কালাদান নদীর পূর্ব তীরে যা ছিল মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা, তা হয়ে যায় মুসলিম সংখ্যা লঘু এলাকা। পরবর্তী সময়ে বৃটেন আবার দখল করে নেয় বার্মা এবং রোহিঙ্গারা তাদের স্বায়ত্বশাসন ফেরত পায়। কিন্তু তা বেশীদিন টেকেনা, কারন ১৯৪৮ সালে বৃটেন বার্মা ছেড়ে চলে যায়। স্বাধীন বার্মায় রোহিঙ্গাদের নিষিদ্ধ করা হয় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারী পদে। রোহিঙ্গারা আবারও অস্ত্র হাতে নেয়। কিন্তু এরকম অবস্থার মধ্যেও সংসদে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি ছিল। ১৯৬২ সালে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল নি উইন, যিনি রোহিঙ্গাদের সর্বাংশে গুড়িয়ে দেন। ১৯৭০ এর পর থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কার্ড প্রদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালে কেড়ে নেয়া হয় ভোটাধিকার। এরপরে ১৯৭৮ সালে শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং। যার প্রেক্ষিতে ২৫০০০০ রোহিঙ্গা তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এদের বেশীর ভাগকেই তখন আবার বার্মা ফেরত নেয়। কিন্তু এখানে শেষ হয় না। ১৯৯১-৯২ সালে আরো এক সমুদ্র রোহিঙ্গা এসে হাজির হয় বাংলাদেশে। বর্তমানে বার্মার প্রতিবেশী দেশগুলো এই রোহিঙ্গা সমস্যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়।[৪]

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদে সেনা অভিযান নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে। এমনি এক অভিযানে যখন মংদুতে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন একজন রোহিঙ্গা বলছিল, "মারাকেশ মসজিদ এক বছর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের কেউ কেউ চেয়ে চেয়ে দেখছিলো। পুলিশ তাদের পিটিয়ে বের করে দেয়।" আরেকজন শরনার্থী বলেন, "আমার ২০ একর জমি এবং ৭টি গরু ছিল। সব কেড়ে নেয়া হয়েছে।" [৩]


এতকিছুর পরে রোহিঙ্গাদের উপর আরেকটি বড় আঘাত নেমে আসে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের নাগরিকত্ব আইনে সব নাগরিক সমান সুবিধা ভোগ করত, যা ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে নেই। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বার্মান নাগরিক তিন ধরনের হতে পারে: পূর্ন নাগরিক, সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিক। পূর্ন নাগরিক হচ্ছে তারা যারা ১৮২৩ সালে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে বার্মায় অবস্থান করছিল। মোট ১৩৫ টি জাতিসত্ত্বা এই নাগরিকত্বের অনুমোদন পায়, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গারা নেই। এই পূর্ন নাগরিকরা রাষ্ট্রের সব ধরনের নাগরিক অধিকার পাবেন। সহযোগী নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড নাগরিকদের অধিকার পূর্ন নাগরিক অধিকারের সমকক্ষ নয়। ১৯৮৯ সালে বিভিন্ন বর্নের নাগরিকত্ব কার্ড সবাইকে দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের কোন রকম কার্ড দেয়া হয় না। রোহিঙ্গারা হারায় নাগরিকত্ব, তারা বার্মা কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিক নয়। বার্মা রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গন্য করে। ভ্রমন, বিয়ে, সন্তান সহ অন্যান্য নানা বিষয়ে তাদের উপরে আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভ্রমনে কড়াকড়ি থাকায় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়া একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দাড়ায়। [১] ২০০১ থেকে আরাকানের আকিয়াব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়ার সুযোগ সীমিত করা হয়। ফলে তারা অনেকটা অশিক্ষিত হয়ে বাড়ছে। মেডিসিন স্যান ফ্রন্টিয়ার্সের মতে রোহিঙ্গারা বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।[২]

[sb]শেষ কথা: [/sb]

রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘ নির্যাতনের ইতিহাস সত্ত্বেও তারা ঘুরে দাড়িয়েছে এবং বিশ্ব জনমতকে নিজেদের পক্ষে নিতে পেরেছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুত বার্মা তাদের নাগরিকত্ব এবং নাগরিক অধিকার প্রদান করবে। তবে সেরকম সমাধান আসার আগ পর্যন্ত সব পক্ষকে ধৈর্যশীল হয়ে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মানবিক ভাবে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হলেও, তাদের কেস অন্য অনুপ্রবেশকারীদের মত নয়। বরং এই রোহিঙ্গাদের এই অনুপ্রবেশকে আমি দেখি বাচার সংগ্রাম হিসেবে, জীবনের প্রতি মমত্ববোধের অংশ হিসেবে। যারা বাচতে চায়, জীবনকে গড়তে চায়।

১। http://www.fmreview.org/FMRpdfs/FMR32/11-13.pdf
২। http://bro-uk.org/v1/index.php?option=com_content&task=view&id=14&Itemid=1
৩।http://www.amnesty.org/en/library/asset/ASA16/006/1992/en/30e04c3e-f93d-11dd-92e7-c59f81373cf2/asa160061992en.pdf
৪। http://books.google.com/books?id=jIxCUXI38zcC&pg=PA264&dq=rohingyas+human+right&ei=6927S9vJJYGOywSX_eGHDA&cd=2#v=onepage&q&f=false
৫। http://en.wikipedia.org/wiki/Rohingya_massacre
৬।http://www.weeklyblitz.net/536/rohingya-persecution-in-bangladesh
৭। http://www.bangkokpost.com/opinion/opinion/10889/rohingya-a-regional-issue
৮।http://www.bangkokpost.com/news/investigation/136770/rohingya-a-regional-problem

৯। http://english.aljazeera.net/news/asia-pacific/2009/01/20091267174292748.html
১০। http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=131829

ইবনে রুশদ - ১

[ ইউরোপ তখনও রেনেসার ছোয়ায় সিক্ত হয় নি। এমনি সময়ের এক দিনে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন কয়েকজন দার্শনিক। তারা "[si]ইবনে রুশদ কর্তৃক ব্যাখায়িত এরিস্টটল[/si]" বিষয়ে নিজেদের পারঙ্গমতা দাবী করলেন। চমকে গেল পৃথিবী, পশ্চিমে এলো রেনেসার ঝড়। নড়বড়ে হয়ে গেল চার্চের আসন, শুরু হল সেক্যুলার ইউরোপের যাত্রা। মৌ পোকা যেমনি করে ফুল থেকে মধু আহরন করে, ঠিক তেমনি ইবনে রুশদের গ্রন্থ ভান্ডার থেকে পশ্চিম গ্রহন করতে শুরু করল এরিস্টটলীয় দর্শন। ইবনে রুশদের মাধ্যমে ইউরোপ পায় সভ্যতার জনক এরিস্টটলের চিন্তাধারার উত্তরাধিকার। দ্রুত বিস্তৃত হতে শুরু করল এরিস্টটল এবং সাথে সাথে ইবনে রুশদের আইডিওলজি। শেষ মরন চেষ্টায় চার্চ নিষিদ্ধ করতে চাইল রুশদের সমস্ত বই। কিন্তু সে বড় দেরী, চার্চের এই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইটালির বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হয় এরিস্টটল এবং ইবনে রুশদ। পশ্চিমে তাই আজো সম্মানিত হয়ে আছেন, ইতিহাসের পাতায় অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে নিজের ঠাই করে নিয়েছেন কর্ডোভান এই দার্শনিক। যুগে যুগে যেসব দার্শনিক, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অজ্ঞানতাকে জ্ঞান দিয়ে, নিষ্ঠুরতাকে সভ্যতা দিয়ে, অসুস্থতাকে স্বাস্থ্য দিয়ে, স্বৈরতাকে স্বাধীনতা দিয়ে, দারিদ্রকে প্রাচুর্য দিয়ে, সংকীর্নতাকে সুখ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন - [si]"ওয়েস্টার্ন কালচার গ্লোবাল"[/si] কর্তৃক প্রকাশিত তাদের প্রথম একশত জনের তালিকায় ইবনে রুশদকে দেয়া হয়েছে ১১ নং স্থান (http://westerncultureglobal.org/heroes-numerical.html)। ইবনে সিনা (৩৩ নং), লিওনার্ডো দ্য ভিনসি (৩৭ নং) কিংবা আর্কিমেডিসের (৪৫ নং) স্থানকে টপকে ইবনে রুশদের ১১ নং স্থানে যাওয়াটা বেশ বিষ্ময়কর, যার পেছনের মূল কারন সম্ভবত ইবনে রুশদের দর্শন, মানব ও রাষ্ট্র সভ্যতার বিকাশে যা ছিল অপরিহার্য। এই দর্শনকে লালন করতে জীবনে কখনও তিনি ছিলেন নির্বাসিত, কিংবা মৃত্যুর পরেও অবহেলায় পুড়েছে তার গ্রন্থভান্ডার। কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, ক্রুসেডাররা গ্রানাডার যে গ্রন্থাগার ছাই ছাই করে পুড়িয়ে দেয়, তাতে নাম নিশানা নিশ্চিহ্ন হবার বদলে ফিনিক্স পাখীর মত আবার পৃথিবীর দূর দূরান্তে ছড়িয়ে যাবেন রুশদ?

কয়েকটি পর্বের এই সিরিজের লেখাটিতে আমি ইবনে রুশদের দর্শন, জীবন ধারা ও চিন্তাধারার পরিচিতি দেবার চেষ্টা করছি। এই প্রথম পর্বটি গল্পের আকারে লেখা, যা কিছুটা কল্পনা মিশ্রিত। পরের পর্বগুলো হবে তথ্যমূলক নিবন্ধ। সিরিজটির সাথে থাকার আমন্ত্রন রইল, তথ্য বা মন্তব্য দিয়ে সহায়তা করার ধন্যবাদ রইল।]

=============================================
এক.

খলিফা ইয়াকুবের দরবার। জ্ঞানী গুনী পরিবেষ্টিত খলিফা আজ বেশ চিন্তিত। চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে তার চেহারায়। তার উজিরদের মাঝে শুরু হয়েছে গুন্জ্ঞন। অবশেষে একজন শুরু করলেন:

"আমিরুল মুমিনীন। আমায় ক্ষমা করবেন। আপনাকে আজ বেশ পেরেশান মনে হচ্ছে।"

"ঠিকই ধরেছ ইবনে তুফায়েল। আমি আজ কিছুটা বিভ্রান্ত।"

"বেয়াদবী না নিলে জানতে পারি এর কারন?"

"ভাবছিলাম এরিস্ততলের বইগুলোর কথা। কি কঠিন, জটিল। সাধারনের বোধগম্যের বাইরে। কেউ যদি এর সারবত্তাটুকু সাধারনের জন্য সহজ ভাষায় লিখে দিত তবে তা আমজনতার জন্য কতই না কল্যানকর হত। তুফায়েল, সেরকম কারো সম্পর্কে তুমি কি কিছু জান?" খলিফা তার উজির তুফায়েলের দিকে চাইলেন।

"আমিরুল মুমিনিন। আমি আপনার উজির, আমার কাজ আপনাকে পরামর্শ দেয়া। সেরকম মানুষ একজনই আছেন এই আন্দালুসিয়াতে।" থামলেন ইবনে তুফায়েল।

"আছে সেরকম কেউ? অথচ আমি জানি না। কে তিনি আবু বকর?" উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা জানতে চান।

"তিনি অপরিচিত কেউ নন। স্বনামধন্য কাজী আবুল কাসিমের পুত্র। তার নাম আবু ওয়ালিদ।"

"আবুল কাসিম? যিনি মোরাবিতদের বিচারক ছিলেন?"

"জ্বি তিনিই।" ইবনে তুফাইল জানালেন।

"ঠিক আছে। তাকে আমার সাথে দেখা করতে বল।"

"তিনি এই দরবারেই আজ হাজির রয়েছেন, আমিরুল মুমিনিন। আপনি চাইলে তিনি আপনার সাথে একান্তে আলাপ করতে পারেন।" ইবনে তুফাইল ইংগিত করলেন নূতন আগন্তুকের দিকে। দরবারের তখন মনোযোগ সে আগন্তুকের প্রতি।

খলিফা দৃষ্টি দিলেন আগন্তুকের দিকে। একটু থেমে আচমকা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "দার্শনিকরা এ বিশ্বের সৃষ্টির বিষয়ে কি বলে? তা কি শ্বাশত, নাকি সময়ের শুরুতে তৈরী করা।"

আগন্তুক বুঝতে পারলেন প্রশ্নটা তাকে উদ্দেশ্য করে করা। খুব খুশী বলে মনে হল না। তিনি জানেন এসব বিষয় আমজনতার মাঝে কতটা বিতর্ক তৈরী করেছে। আমতা আমতা করে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইল। খলিফা ফিরলেন ইবনে তুফায়েলের দিকে।

"দেখো তুফায়েল। প্লেতো কিন্তু আরিস্ততলের ঠিক উল্টোটা বলেছেন। আরিস্ততল যেখানে বিশ্বকে অনাদি দাবী করেছেন, প্লেতো দাবী করেছেন তা সৃষ্ট।" আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি কিছু জানেন?"

আগন্তুকের দ্বিধা কাটতে শুরু করল। খলীফাকে একজন সত্যিকারের সমঝদার বলে মনে হল তার। মহাবিশ্ব নিয়ে দার্শনিকদের এসব ধ্যান ধারনার সাথে আগন্তুক খুব ভালভাবেই পরিচিত। অনেকটা নির্ভয়ে শুরু করলেন আলোচনা। ধীরে ধীরে খুলতে লাগলেন দর্শনের নানা জট। নিবিষ্ট শ্রোতার ভূমিকায় খলীফা শুনতে লাগলেন।

খুশী হলেন খলীফা। "তুফায়েল আপনার বিষয়ে ঠিকই বলেছে। আপনার পক্ষেই আরিস্ততলের সারাংশ লেখা সম্ভব। আর প্লাতোর রিপাবলিকের মুখবন্ধ আপনি লিখুন, তাও আমি চাই। এ গুরু দায় আপনাকেই দেয়া হল। এছাড়া সেভিলে কাজীর পদ অলংকৃত করবেন। বংশ পরষ্পরার এ ধারায় আপনিই তার যোগ্য উত্তরসূরী। বংশ পরষ্পরায় মোরাবিতদের বিশ্বস্ত ছিলেন বলে ভাববেন না আমি আপনার উপর বীত শ্রদ্ধ। আপনি আপনার পেশাগত দায়িত্ব সম্পূর্ন স্বাধীন ভাবে পালন করবেন।" খলিফার আচরন আশ্বস্ত করল আগন্তুককে।

আগন্তুকের আশংকা কেটে গেল। উৎফুল্ল চিত্তে তিনি খলীফার দরবার ত্যাগ করলেন।

দুই.

পয়ত্রিশ বছর পরের কথা।

সেদিনের সেই আগন্তুক আজ বাহাত্তর বছরের বৃদ্ধ, যার জীবনী শক্তি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। স্মৃতিচারনে তিনি ভুলে যেতে চান তিক্তময় অতীত, তবু তা দুঃসহ যন্ত্রনা হয়ে বার বার বুকে আঘাত করে। ভেবেছিলেন ইসালার নির্বাসন থেকে ফিরে এসে হয়তবা মর্ম বেদনা কম হবে। কিন্তু তিল তিল করে গড়ে তোলা বইগুলো যে তার জীবনের আরেক পিঠ, সে ধ্বংসের বেদনা এই মৃত্যু প্রহরের বেদনার চেয়েও অন্তর্ঘাতী।

আপনি কাফের .............। মুসলমানের বাচ্চা এসব করতে পারে না, মুসলমান ভাবতে পারে না, লিখতে পারেনা .................। চাবুকের মত বাক্যগুলো বৃদ্ধকে আবারো আঘাত হানে। সব কি ভুলে যাওয়া যায়। কল্পনায় ভেসে উঠে সেই সালিশ ........। যে মানুষটি নিজেই সারা জীবন বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন, জীবনের শেষ আদালতে কিনা তারই বিচার হয়েছে....। ভাগ্যের কি পরিহাস। জীবনের ফোটা ফোটা ঘাম ঝরানো অতন্দ্র প্রহরের সাধনার সব লিপির আগুন পড়া ছাই মনের ভেতর আবার আগুন হয়ে দাউ দাউ জ্বলে। একটা জীবনের সাধনা ......। কতই না মূল্যহীন .............।

স্বপ্নের কর্ডোভাতে হাজারো মানুষের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে খলীফা তাকে একদিন সম্মানের সাথে কাছে ডেকে নিয়েছিলেন, সেই তিনিই কিছু উন্মত্ত অন্ধ মানুষের কাছে আত্ম সমর্পন করতে দ্বিধা করলেন না। হায়রে রাজনীতি .......। যে দর্শন ছিল গর্ব অহংকারের বিষয়, তাই শেষে হয়ে গেল গলার কাটা।

জিহাদ শেষ হয়েছে। রক্ষনশীলদের প্রয়োজন খলীফার কাছে ফুরিয়েছে ...। মনে হয়েছে সেই নির্বাসিত বৃদ্ধ দার্শনিকের কথা। হয়ত বা কিছুটা অনুতপ্তও............... নির্বাসন দন্ড স্থগিত করে আবার তাই ফিরিয়ে আনা হয়েছে মারাকেশে। সমাজে তার মুসলমানিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করার কেউ নেই। হারানো সম্মান আবার তার আপন ঠিকানা খুজে পেয়েছে।

তবুও শুধু হাহাকার। বিষন্নতা তার পিছু ছাড়ে না। হঠাৎ পড়ার ঘরটায় ঢুকলে যেন রাশি রাশি বই চোখে পড়ে। আবারো নেচে উঠে মন প্রান। ঐ তো তার সব লেখা বই......, নিজের হাতে লেখা......... দিনের পর দিন বছরের পর বছরের সাধনা। কিছুই নষ্ট হয় নি। সব অকৃত্রিম রয়েছে।

না কোথায়। হতাশ হন তিনি। সব ভুল, চোখের ধাধা। সে সব বই যে সব ছাই হয়ে গিয়েছে। বুক শেলফটা রয়েছে ঠিকই। নেই তাতে প্রান।

দূরে মসজিদের প্রাঙ্গন থেকে ভেসে আসে আজান। ভগ্ন প্রান বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে নামাজে দন্ডায়মান হবার প্রস্তুতি নেয়। দখিনের এক ঝাপটা বাতাস তাকে এলোমেলো করে দিয়ে যায়। সে বাতাসে যেন তিনি ফিসফিস শুনতে পান, "হতাশ হবে না। তোমার সব সম্পদ এই পৃথিবীতেই রয়েছে। পৃথিবী একদিন সে গুপ্তধন খুজে নেবেই।"




============================================

http://www.renaissance.com.pk/jagletf98.html



http://www.google.com/imgres?imgurl=http://muslimmedianetwork.com/mmn/windows-live-pictures/MuslimScientistsandThinkersAbuWaleedIbnR_A97B/ibnrushd.jpg&imgrefurl=http://muslimmedianetwork.com/mmn/%3Fp%3D2905&h=480&w=562&sz=126&tbnid=vpAtJmYeol1W9M:&tbnh=114&tbnw=133&prev=/images%3Fq%3Dibn%2Brushd%2BImage&hl=en&usg=__RzWIim3tjZppC9qAHL5xlwqnjmc=&ei=FvLFS8GEDIK8lQe8rJCADA&sa=X&oi=image_result&resnum=7&ct=image&ved=0CBMQ9QEwBg