Friday, October 17, 2008

বুয়েটে আমার দেখা রাজনীতি

আমেরিকা প্রবাসী লেখক উম্মু আবদুল্লাহ র বুয়েটের রাজনীতি সম্পর্কের লেখাটি পড়ুন...


বুয়েটে আমার দেখা রাজনীতি
-উম্মু আবদুল্লাহ

রাজনীতির সাথে আমার প্রথম পরিচয় বুয়েট জীবনে। এখানেই জীবনে প্রথম সক্রিয় রাজনীতি প্রত্যক্ষ করি। আমার সময়টা ৯০-৯৫ সালের। ক্লাশ শুরু হয় ৯০ এর একেবারে শেষের দিকে। সে সময়টা এরশাদ পতনের আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত। বুয়েটেও চলছিল সক্রিয় আন্দোলন। ফলে সেসময় বুয়েটের বাতাস ছিল রাজনীতির আমেজ ক্লিষ্ট। তাই রাজনীতির ব্যপারে আমি অনাগ্রহী হলেও রাজনীতির অনেক টুকরো ঘটনা স্মৃতিতে ঠাই করে নিয়েছে দৃঢ়ভাবে।

বুয়েটে ক্লাশ শুরু হতেই নূতন ছাত্র/ছাত্রীদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য ছাত্র সংগঠনগুলো বিভিন্নরকম নবীন বরন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকত। কোন কোন অনুষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রীরা নিজেরা প্রোগ্রাম করত। আবার কখনও কখনও ব্যান্ড নিয়ে আসত। আমাদের সময়টাতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এতটা প্রকট ছিল না। সংগঠনগুলোর কর্মীরা চাদা তুলে এসব প্রোগ্রামের আয়োজন করত। কেন্দ্র থেকে খুব বেশী সাহায্য পাওয়া যেত না। যাবে কি করে, তখন চলছিলো এরশাদের সামরিক শাসন। দলগুলোর আর্থিক অবস্থা ছিল বেশ নাজুক।

ব্যক্তিগত ভাবে রাজনীতির খবরাখবর নিয়মিত রাখলেও বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি আমাকে কখনই আকর্ষন করে নি। আমি বুয়েটে ভর্তি হবার পর পর সেবারের ইউকসু ইলেকশনটা বেশ গুরুত্বপূর্ন ছিল। ভর্তি হলেও তখনো আমরা ক্লাশ শুরু করিনি। পত্রিকায় পড়তাম সব খবর। ৯০ এর আন্দোলনের পিক অবস্থা চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের নির্বাচনের ফল বেশ গুরুত্ব বহন করছে তখনকার জাতীয় রাজনীতিতে। এদিকে বি এন পি, জামাত ছাড়া বাকী রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এক হয়েছে। ফলে বি এন পি পড়েছে কিছুটা বেকায়দায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও ছাত্র দল হেরেছে সংগ্রাম পরিষদের কাছে। ডাকসুতেও ছাত্রদলের পরাজয়। তবে ভাল সাংগঠনিক ভিত্তি থাকার ফলে বি এন পির বেশ সম্মানজনক পরাজয় হয়েছিলো। কিন্তু তা হলেও পরাজয় তো পরাজয়ই। ইউকসু ইলেকশন সেবারে তাই ছিল অস্তিত্বের লড়াই।

এরই মধ্যে হল ইউকসু নির্বাচন। বি এন পির দুর্গ বলে খ্যাত বুয়েট খালেদা জিয়াকে এনে দিল আস্থা। সাতটির মধ্যে চারটি সংগ্রাম পরিষদ নিয়ে নিলেও প্রেস্টিজিয়াস ভিপি সহ তিনটি ধরে রাখে বি এন পি। ভিপি হন ছাত্রদলের সাগর। এই নির্বাচনের ফল খালেদা জিয়াকে করে তোলে আস্থাশীল।

এর পরের রাজনীতির ইতিহাস কি মনে আছে আপনাদের? সেই ৯০ এর কথা? ছাত্রী মিছিলে হামলা, ডা: মিলন হত্যা, প্রতিদ্বন্দী হত্যাসহ বিভিন্ন কুকর্মের কুখ্যাত অভি নীরু বাহিনীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঢাবি থেকে তাড়া খেয়ে তারা আশ্রয় নেয় বুয়েটের হলগুলোতে। কি যে ভয়ংকর অবস্থা। ছেলেগুলো থাকে আতংকে অস্থির। দেখে আমরাও আতংকিত হয়ে যাই। বুয়েট তখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। প্রতিদিনই মিছিল হচ্ছে। কে কখন গুলিবিদ্ধ হয় কে জানে। সেটা জেনেও সবাই মিছিলে যায়। টিচাররা কালো ব্যাজ পড়ে ক্লাশ নেন। বুয়েটে ক্লোজড সাইন ডাই হয়েছে কয়েকবার। মুহুর্তের মধ্যে হল খালি করতে বলা হয়। সেবার মেয়েদের কি অবস্থা। কয়েক ঘন্টার নোটিশ দিয়ে হল খালি করতে বলা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সব জায়গায় উন্নত ছিল না। খুব কষ্ট হয়েছে অনেকের নিজের বাড়ী যেতে।

এরশাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রান ফিরে আসে ক্যাম্পাসে। ১৪ মাসে আমরা শেষ করি ফার্স্ট ইয়ার। কয়েক মাস ছিল বন্ধ। যা আমরা এরশাদ ভ্যাকেশন নাম দিয়েছিলাম। সেকেন্ড ইয়ারে আবার শুরু হয় ইউকসু নির্বাচনের বাজনা। প্রতিদ্বন্দী ছাত্র সংগঠন গুলো মেতে উঠে রাজনৈতিক প্রচারনায়।

এর মধ্যে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা। বুয়েটে ইউকসুর ভিপি সহ সাতজন পানিতে ডুবে মারা যায়। তার ফলে বুয়েটে বেশ কিছু দিন ছুটি পাই। বি এন পির রুহুল ভাই ক্যাম্পাসে খুব প্রিয় মুখ ছিলেন। ভূপেন হাজারিকার গান গাইতেন। আমি এখনও তাকে মনে করতে পারছি। তিনি স্টেজে গান গাইছেন, \"গংগা তুমি বইছ কেন?\" তার মৃত্যু সবাইকে বেশ নাড়া দেয়। সব ছাত্র সংগঠনের সবাই মিলে স্মরনিকা বের করে। তার মৃত্যু বুয়েটের একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা।

এর পরবর্তী ইউকসু নির্বাচনে হয়ত বা সিম্প্যাথি ফ্যাক্টর কাজ করে থাকবে এই শোকাবহ ঘটনা। ছাত্রদল আশাতীত ভাল করে ইউকসুতে। এক এজিএস পদটা ইউনিয়নের টিটুভাই নিয়ে যান। বাকী ৬টি সহ হল সংসদের প্রায় অধিকাংশ ছাত্রদলের দখলে। ছাত্রী হলেও বি এন পি খুব ভাল করেছিল। অথচ ছাত্রী হল মূলত ইউনিয়ন বেসড। আর টিটু ভাই এর ব্যক্তি ইমেজ ছিল বেশ ভারী। তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, মেধাবী। ব্যক্তি ইমেজই তার সাফল্যের কারন বলে আমার বিশ্বাস।

বুয়েটে যে ছাত্র সংগঠনটির অবস্থা ছিল সবচেয়ে নাজুক - তা ছিল ছাত্র লীগ। কোন মেধাবী, বাগ্মী, যোগ্য ছাত্রকে এই সংগঠন করতে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী আবার ছাত্রলীগের অনুসারী। সে তখন তার সমস্ত প্রতিভা খরচ করে ছাত্র লীগের উন্নয়নের জন্য। ছাত্রলীগের মিছিলগুলোতে সবার আগে সে এবং আরেকটা বান্ধবী থাকত। আমরা তিন তলা থেকে দেখতাম। আর সবচেয়ে যেটা মজা লেগেছিলো তা হল ইলেকশনের সময় ছেলেদের হলে গিয়ে তার ফুল দিয়ে সবাইকে অভ্যর্থনা দেয়া। বুয়েটের রক্ষনশীল পরিবেশে কিছুটা হলেও তা নিয়ে কথা উঠেছে। আর সে নিজেও বেশ রক্ষনশীল। কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শের জন্য মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। তার এত ত্যাগের ফলে বুয়েটে ছাত্র লীগ কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। ড্রাগ এডিক্ট সর্বস্ব দল বলে মনে হত না আর।

ছাত্র লীগকে বুয়েটের দুর্বলতম ছাত্র সংগঠন বলে উল্লেখ করেছি। এতে কোন ভুল আছে বলে মনে করি না। একমাত্র সংখ্যালঘু কিছু ছাত্র ব্যতীত সাধারন ছাত্রদের মাঝে লীগের কোন জনপ্রিয়তা কখনও দেখিনি। যে জনপ্রিয়তা ইউনিয়ন, ছাত্রদল, এমন কি জাসদের পর্যন্ত ছিল। তবে ছাত্র লীগের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা স্মৃতিতে অম্লান। সে ঘটনা ছাত্রলীগকে লাইম লাইটে নিয়ে এসেছিলো। তখন বুয়েটে কনভোকেশনের আয়োজন চলছে। স্মরনকালের প্রথম কনভোকেশন। বেশ বড় সড় আয়োজন। প্রেসিডেন্ট আসবেন। সবাইকে সার্টিফিকেট দেবেন। এই কনভোকেশনের সময় প্রেসিডেন্টের বুয়েট সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হল ক্যাম্পাসে ছাত্র লীগের প্রতিবাদ মিছিল, আন্দোলন।তাদের দাবী রাজাকার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রতিহত করতে হবে। নইলে কনভোকেশন করতে দেয়া হবে না। আমরা রুদ্ধ শ্বাসে অপেক্ষা করছি কি হয় দেখার জন্য। সত্যিই কি কনভোকেশন পন্ড হবে? না, তা হয় নি শেষ পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস আসেন নি। বুয়েট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে কনভোকেশনে প্রধান অতিথি হন খালেদা জিয়া। বুয়েট কর্তৃপক্ষ কনভোকেশন নিয়ে কোন ঝামেলায় জড়াতে চান নি। আর এদিকে রাজাকার প্রেসিডেন্টকে প্রতিহত করার কৃতিত্ব দাবী করে ছাত্রলীগ বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা চালায়। সেসময়টা ক্যাম্পাসে লীগের কর্মকান্ড ছিল চোখে পড়ার মত।


আগেই বলেছি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতৃত্বই ইউকসুতে বেশী সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব করেছে। তবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে স্ক্যান্ডাল একেবারে কম ছিল না। বিশেষত এক বি এন পি সাংসদের নামে স্ক্যান্ডাল শুনেছিলাম সে নাকি টেন্ডারের হিসাব মেলাতে পারছিল না। যার ফলে কতৃপক্ষ তার সার্টিফিকেট আটকে দেয়। পরে হিসাব মেলানোর পর তার ডিগ্রি দেয়া হয়। এটা শুনে আমার বেশ অবাক লেগেছিল। উনাকে আমি দেখেছিলাম বেশ ভদ্র হিসেবে। এত ভদ্র একজনের বিরুদ্ধে কি করে এমন অভিযোগ উঠতে পারে?

বুয়েটের শক্ত প্রশাসনের কারনে ভাংচুরের রাজনীতি খুব বেশী হতে পারে নি কখনই। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে। শিবিরের কিছু ছেলের বিছানা বই পোড়ানো হয়েছে। যেটা বুয়েটের জন্য লজ্জাকর। সব সময় এসব ঘটনার সঠিক বিচার করা সম্ভব নয়। কিছু ঘটনা বিচারের বাইরে রয়ে যায়।

আরো অনেক কিছুই মনে পড়ছে এখন। মনে পড়ছে বুয়েটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলোর কথা। ইউকসুর সার্থকতা এখানে। বেশ ভাল রকম প্রোগ্রাম করত ইউকসু। একবার কোন এক প্রোগ্রামে নূরুল উলা স্যার এসেছিলেন। প্রোগ্রামটা অবশ্য ইউকসুর ছিল কিনা তা মনে করতে পারছি না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং সেই অভিজ্ঞতার বলছিলেন। তার এক ফাকে তিনি বুয়েটের পরিবেশের বেশ প্রশংসা করছিলেন। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পর যখন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে দালাল ধর দালাল মার দালাল খোজ এরকম অভিযান চলছে, তখন বুয়েট নাকি একদম শান্ত। বুয়েটে পাকিস্তানপন্থীরা কখনই মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের বিরক্ত করে নি, আবার উনারাও কখনও পাকিস্তানপন্থীদের উপর চড়াও হন নি। বুয়েটের এই পরিবেশ সব সময়ই সমঝোতাপূর্ন।

রাজনীতি থেকে দূরে থাকাটাই আমি পছন্দ করেছি সারা জীবন। তবুও ছাত্র সংগঠন গুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে যখন বিভিন্ন ব্যান্ড দল ভাড়া করত, তখন আমিও যেতাম বুয়েট অডিটোরিয়ামে। সেই আলো আধারি পরিবেশে ব্যান্ডগুলোর গান শুনতে খুব ভাল লাগত। যত শক্তিশালী সংগঠন তত নামকরা ব্যান্ড আনা হত। ছাত্র দলের পক্ষে বেশ বড় আয়োজন সম্ভব হত। ফিড ব্যাকের মাকসুদ ছিল একটা আকর্ষন। আমার কাছে আবার তাকে অসহ্য লাগত। কিন্তু তার প্রোগ্রাম বুয়েটে খুব জনপ্রিয় ছিল। আমি অবশ্য তওবা কেটে থার্ড ইয়ার থেকে আর কোন ব্যান্ডের প্রোগ্রামে যাই নি। তখন থেকে গান শোনা, টিভি দেখা খুব কমিয়ে দেই।


শেষ একটি স্মৃতি কথা দিয়ে ইতি টানছি আমার বুয়েট রাজনীতি বিষয়ক স্মৃতিচারন। বুয়েটে শক্ত প্রশাসনের মাঝেও শিবির বিরোধিতা কিছু কম ছিল না। শিবিরকে কোন কর্মকান্ড চালাতে দিত না বামপন্থী ছাত্ররা। তো সেরকম একজন বামপন্থী ছেলে ছিল আবার আমার ক্লাশের। সে শিবির বিরোধিতার জন্য বিখ্যাত ছিল। তার ফলে শিবির কর্মীরা সবাই তাকে ভাল মত চিনত। বুয়েট শেষে পরবর্তীতে ছেলেটার বিয়ে হয় আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীর বোনের সাথে। সেই বান্ধবী আর তার বোনের ফ্যামিলি আবার মোল্লা টাইপ। জামাত ঘেষা হতে পারে, আমি ততটা জানি না। ঘটনাক্রমে একবার সেই বান্ধবীর বাসায় আবার ছেলেটির সাথে দেখা হয় আমার। দেখি সে পুরো অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। অসম্ভব ধার্মিক হয়েছে। শিবিরের প্রতি পুরোনো বিরূপভাব তেমন একটা নেই। অনেক সহনশীল হয়েছে। এদিকে সেই আসরে আবার উপস্থিত ছিলেন তখনকার সময়ের বুয়েটের শিবিরের প্রেসিডেন্ট। তিনিও ভালই চিনতেন এই ছেলেকে। আমি উনাকে জানালাম ছেলেটির অভাবনীয় পরিবর্তনের কথা। আমার মত উনিও খুব অবাক হয়েছিলেন। এরকম পরিবর্তন খুব অপ্রত্যাশিত। মানুষ যে কিভাবে বদলায় তা দেখলে হতভম্ব হতে হয়। মানুষ আল্লাহর এক অদ্ভূত সৃষ্টি।

অনেক ঘটনার থেকে এই কয়টি তুলে দিলাম আজ। বাকীগুলো পরে হবে।

লেখক, আমেরিকা প্রবাসী

Monday, August 18, 2008

back up post - 3

ধড়াম করে মাঝারী সাইজের একটা খাদে গাড়ীটা পড়ল। দুলে উঠল পুরো গাড়ী। আমি ভয় পেয়ে আতকে উঠলাম। হায় হায়। চাকা কি পাংচার হল? চাকা পাংচার হলে বাসায় যাব কি করে?

কিছুদুর ড্রাইভ করে বুঝলাম আমার আশংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। চাকা পাংচার হয়েছে মাঝ রাস্তায়। একটা ঠান্ডা শীতল স্রোত আমার ভেতর দিয়ে বয়ে গেল। কি করে বাসায় ফেরব এবার। এই এক বছরের কম বয়েসী মেয়ে নিয়ে? সাড়ে পাচের ছেলে নিয়ে?

কোন মতে রাস্তার একপাশে গাড়ীটা পার্ক করলাম। আল্লাহ আল্লাহ করে পার্স চেক করলাম। "ট্রিপল এ"র কার্ডটা পাওয়া যায় যদি। সেটা পাওয়া গেলে তাও একটা গতি হয়। সেক্ষেত্রে ওদের কল করে গাড়ীর একটা হিল্লা করা যায়। কিন্তু হতাশ হলাম। নাহ, কপাল সব দিক দিয়ে খারাপ। পার্সে কার্ড নেই। কার্ডটাও ফেলে এসেছি। এমন কি সেল ফোনও আনিনি। আহাম্মকীর চূড়ান্ত।

মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে চাইলাম। কি করতে পারি এখন? দেখলাম, একটা অসম্ভব সম্ভাবনাই শুধু সামনে একমাত্র অপশন। হেটে কারো বাড়ী যাওয়া। সবচেয়ে কাছের যে প্রতিবেশী তার বাসায় যেতেও কমপক্ষে আধা ঘন্টা নেবে। এই গাড়ীবহুল ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে কি করে আমি দুই বাচ্চা নিয়ে হাটব। ভাবতে ক্লান্ত বোধ করলাম। কিন্তু উপায় নেই। সেটাই করতে হবে। রওনা হবার প্রস্তুতি নিলাম। মেয়েকে কোলে নিলাম। ছেলেকে বললাম, আমার জামা ধরে হাটতে।

শুরুর প্রস্তুতি নিতেই একটা কান্ড ঘটল। সাই করে একজন আমার পাশে এসে গাড়ী পার্ক করল। গাড়ীর দরজা খুলে বলল, "কি, চাকা পাংচার?"

"হ্যা" আমি মাথা নাড়লাম।

"তোমার স্পেয়ার চাকা আছে।"

"থাকতে পারে। আমি চেক করিনি।" জবাব দিলাম।

"চাবি দাও। ট্রাংক খুলব।"

চাবি দিলাম। সে স্পেয়ার চাকা বার করল। আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "আধা ঘন্টা লাগবে চাকা বদলাতে। অপেক্ষা কর।"

"কি বলছ? তুমি বদলাবে? এত কষ্ট করবে?"

"তুমি আমার বোনের মত। তোমার জন্য না হয় এইটুকু করলাম।"

আমাকে বিষ্ময়ে ফেলে দিয়ে সে ম্যানুয়ালী চাকা বদলানো শুরু করল!!! কি কষ্টের সে কাজটি। একটা অজানা অচেনা কারো জন্য কেউ এরকম করতে পারে - এ তো শুধু নাটক গল্পেই হয়ে থাকে। বাস্তবে কি কখনও হয়?

বাস্তবে হল। কোন উল্লেখ যোগ্য টুলস ছাড়া ম্যানুয়াল লেবারে সে স্পেয়ার চাকা লাগাল। আমি দাড়িয়ে দেখলাম। কথার ফাকে ফাকে জানলাম আফ্রিকা থেকে এখানে সে এসেছে ভাগ্যের সন্ধানে। মুসলিম। এখনও খুজছে কাজ। সুবিধা করতে পারেনি।

পেরিয়ে গেল বেশ খানিক ক্ষন। লাগানো হয়ে গেল চাকা। এবার বলল, "তুমি যাও আমি পেছনে পেছনে আসছি। আগে চালিয়েছ স্পেয়ার চাকা।"

"না।"

"তিরিশের উপরে স্পীড উঠাবে না।"

আমি মাথা নাড়লাম। আস্তে আস্তে স্টার্ট দিয়ে চালানো শুরু করলাম। ভেতরে ধুক ধুক শব্দ হতে লাগল। কতক্ষন পরে বাসায় পৌছলাম। দেখলাম, বাসায় শেষ পর্যন্ত পৌছুতে পেরেছি। কেমন অবিশ্বাস্য মনে হল।

নেমেই দেখলাম ছেলেটার গাড়ীও পেছনে এসে থেমেছে।

ধন্যবাদের কথা প্রথমে মনে এল। কিন্তু পারলাম না তাকে ধন্যবাদ দিতে। ছোট খাটো সাহায্যে ধন্যবাদ দেয়া যায়। কিন্তু জনবহুল রাস্তায় গড়ী থামিয়ে টুলস ছাড়া ম্যানুয়ালী স্পেয়ার চাকা লাগিয়ে যে ছেলে পিছে অনুসরন করে আসে আমি ঠিকভাবে পৌছেছি কিনা তা দেখার জন্য, সে ছেলেকে ধন্যবাদ জানানো যায় না। তাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম কি তা আমার জানা নেই।

এবার বাসায় ফেরার পালা। "চল আমার বাসায়", বলতে চাইলাম।

কিন্তু বাধা দিল আজন্ম লালিত সংস্কার। খালি বাসায় এই পচিশ ছাব্বিশ বছরের একটা ছেলেকে নেয়া যায় না। ইতস্তত করলাম। খানিকটা ক্লান্ত, হতাশ আর হতবিহ্বল লাগছিল। শেষে আমার ভদ্রতা বোধ বিজয়ী হল। আমি বললাম, "বাসায় এসে চা খাও। ওদের বাবাকে কল দিচ্ছি। ও এখনই চলে আসবে।"

কিন্তু সমস্যার সমাধান দিল সে নিজেই।

"আমি ভীষন ব্যস্ত। স্যরি। তোমার বাসায় যেতে পারছি না।"

আমিও চাপাচাপি করলাম না। কি দরকার। সে তো আমাকে স্বার্থহীনভাবেই সাহায্য করেছে।

আবারো চাইলাম ধন্যবাদ দিতে।

পারলাম না। মুখে আটকে গেল। চেয়ে চেয়ে দেখলাম তার প্রস্থানকে।

শুধু হৃদয়ের ভেতরটাতে রয়ে গেল এক অপরিসীম কৃতজ্ঞতাবোধ। যার প্রকাশ শুধু নীরব প্রার্থনায়। হে করুনাময়, তুমি তোমার অপরিসীম করুনাধারা তার উপরে ঢেলে দাও। তোমার অনুগ্রহে তাকে সিক্ত কর।

পড়েছেনঃ ৫৪জন মন্তব্যঃ ২৪টি
পোস্ট রেটিং(৫.০/১১)

আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
১০ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:১৮


পড়লাম । হুমম ভাল লাগল বরাবরের মতই ।

কোন কোন সময় ধন্যবাদ যেন ছোট মনে হয় । তারপরেও ধন্যবাদের ভাষা ধন্যবাদেই ।
লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৫
আপনাকেও ধন্যবাদ।



মুকুটবলেছেনঃ
১০ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৪


হুম! এখনও এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার জন্য পৃথিবীটাকে এখনো ভালো লাগে, বাচতে ইচ্ছা করে! আসলে ধন্যবাদ দিলে ঐ ছেলেটার নিঃস্বার্থ সহযোগীতাকেই খাটো করা হবে! ছেলেটা ভালো একটা কাজ পাক, এই কামনা রইল! আর আপনিও নেক্সট টাইম প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ড্রাইভ করবেন!
লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
ছেলেটা বেশ দক্ষ মোটর মেকানিক মনে হল। কাজ পাওয়াই উচিত। আর একগাদা কাগজ নিয়ে ড্রাইভ করতে হয় বলে ড্রাইভিং আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।



মাহমুদ রহমানবলেছেনঃ
১০ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৭


আমি একটা পোস্ট লিখছিলাম। আপনার এই পোস্ট পড়ে আপাতত ঐ টা ড্রাফটে গেল।...... মানুষ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসব, এটাই তো হওয়া চাই।

সেই যুবকের প্রতি কৃতজ্ঞতা। যাত্রা পথে , এরকম একটা গল্প আমারও জানা আছে; তবে এক্ষেত্রে আমরা ছিলাম আপনার এ ঘটনা যুবকের ভূমিকার মত.... সেজন্য জানাতে ইচ্ছা করে না।
লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
ড্রাফটে যাওয়ার কারনটা জোড়ালো নয়।



বৃত্তবলেছেনঃ
১০ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩৮


পড়লাম। এক মুসলমানেও জন্য তো অপর মুসলমানেও এমন ভালোবাসাই থাকা উচিত, তাই না?
পড়ে খুব ভালো লাগল। সেই যুবকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
আমারও।



পরীবলেছেনঃ
১০ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৪২


আমিন।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩২
ধন্যবাদ।



আরিশাবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৫


পড়লাম। ভালো লাগলো আপনার শুভ কামনা।
আপনি সেদিন ভালোভাবে বাসায় ফিরেছিলে যেনে আরো ভালো লাগলো।
আর সেই নিঃস্বার্থ সাহায্যকারীর প্রতি রইল পার্থানা, হে করুনাময়, তুমি তোমার অপরিসীম করুনাধারা তার উপরে ঢেলে দাও। তোমার অনুগ্রহে তাকে সিক্ত কর।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩২
আল্লাহ আপনার ভালো করুন। আপনার জন্যেও অনুরূপ দোয়া।



আশিক হাসানবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১০


আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছু শেখার আছে । খুব ভাল লাগলো এমন মানুষের কাহিনী শুনে ।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩১
ধন্যবাদ।



রহস্য বালিকাবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৪


ইসস... এত চমৎকার মানুষও হয়! আমার খুব ছেলেটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। এরকম মানুষে এই পৃথিবী ভরে উঠুক।
ঘুম থেকে উঠে (অনেক দেরিতে উঠলাম যদিও) প্রথম আপনার লেখাটা পড়লাম। পড়ে খুব ভালো লাগছে। মনটা খুব শান্ত হয়ে গেল। মনে হচ্ছে না যে নেটে সময় নষ্ট করতে বসেছি।
এমন একটা লেখার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩১
"মনে হচ্ছে না যে নেটে সময় নষ্ট করতে বসেছি।" এরকম অনুভূতি জাগ্রত করতে পারলে আমার এইসব হাবিজাবি লেখা সার্থক। আপুকে ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের জন্য। যদিও চমৎকারিত্ব আপুর জন্যে খুব স্বাভাবিক।



সোহেলবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৮


কোন কোন পোস্ট আছে যেগুলোতে পাঁচ দিলে ছোট করা হয়। তাই রেটিং দিলাম না।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৯
ধন্যবাদ রেটিং এর উর্দ্ধে লেখাটিকে স্থান দেবার জন্য।



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২০


আচ্ছা তাহলে আমাকেও এমন হতে হবে

হৃদয় নিংড়ানো অব্যক্ত শুভ কামনা যে আমারো চাই




লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৬
পেয়েছ। অন্তত পক্ষে ভার্চুয়াল জগতের জন্য।



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২৩


বৃত্তভাই, শুধু এক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের ভালোবাসা থাকবে কেন ___সব মানুষের জন্যই মুসলমানদের ভালোবাসা থাকুক ______বরং তা-ও না___বলা উচিত___সব মানুষের জন্যই সব মানুষের ভালোবাসা থাকুক ।


লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৮
ঠিক।



অবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৪৭


যুবকের প্রতি সালাম।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৮
সালাম।



পৃথিবীবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:০০


ইসলামের ইতিহাসে ছড়িয়ে থাকা হাজারো নিঃস্বার্থ সাহায্যকারীর মহানুভব হৃদয় গুলোর একটি হয়তো আল্লাহ পাক তাকেও দান করেছেন।তাকে তিনি কবুল করুন।মনটা সত্যিই ভাল লাগছে।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৮
আপুর মন ভাল করতে পেরেছি - এই যে আমার বড় পাওয়া।



দুলালবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৭


হুম , ভাল মানুষ আছে বলেই তো পৃথিবীটা আজ ও টিকে আছে ।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৭
একমত।



ভোরের কোলাহলবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২৭


দুর থেকে সেই যুবককে শ্রদ্ধা জানাই। মুসলমানতো এমনই হওয়া উচিত ছিলো।
লেখক বলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:২৭
একমত। আমি নিজেও সেজন্য এরকম হবার চেষ্টা করেছি।



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৫


শুভ কামনা কি আর দেখা যায় ? সে ও তো ভার্চুয়াল ব্যাপার স্যাপার । আমি তো বুঝি-ই ।
তবু ও মুখফুটে বলেছেন ...
কৃতজ্ঞতা সুপরিচিত "অজানা আপাটি "...
লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:২৮
কৃতজ্ঞতা অতি সুপরিচিত অথচ অতি অজানা ভাইটির প্রতিও



মননশীলবলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০০


এই পোস্টখান পইড়া তো মচৎকার অনুভূতি আইলো!
একজন ভালা মানুষ বিপদে পড়সেন আরেক ভালা মানুষ হেল্প করসেন।
আল্লাহ তুমি এই দুইজনের উপর তোমার খায়ের বরকত নাজিল করো। আমীন

পৃথিবীতে জাতি বর্ন নির্বিশেষে একই আকাশের নীচে আছে ভালো মানুষেরা।

লেখক বলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
বরকত আপনার উপরেও নাজিল হোক।



ফজলে এলাহিবলেছেনঃ
১২ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮


ভালো লাগলো বর্ণনার ধারা। দো'আ থাকলো সেই মুসলমি ভাইয়ের জন্য। এবং ভাবছি আর ভাবছি,,, আমাদেরকে কি পৃথিবী বদলে দেয় না কি আমরাই সময়ের ব্যবধানে দারুন স্বার্থপর হয়ে উঠি। ছোটবেলায় কত বকা শুনেছি ঘরের সদস্য/সদস্যাদের কাছ থেকে, কারণটি ছিল সারা বাড়ীর অন্যান্যদের টুকিটাকি কাজে ব্যস্ত থাকা।
লেখক বলেছেনঃ
১৩ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:০৪
ভাল লাগল আপনার মন্তব্য। ধন্যবাদ।



মাহমুদ রহমানবলেছেনঃ
১৪ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৪১


ড্রাফটে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, ঐ সময় আপনার এই পোস্টের পাশে আমার পোস্টটার কোন মুল্যই থাকত না।
লেখক বলেছেনঃ
১৪ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫০
তাও পড়তে চাই। খুব তাড়াতাড়ি।



মাহমুদ রহমানবলেছেনঃ
১৪ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০৯


মাকে নিয়ে লেখা গানটায় ছিল সেই পোস্ট....

খেয়াল করলে দেখবেন, আমি মৌলিক পোস্ট খুব একটা দিতে পারি না। পার্সোনাল লাইফে আমি খুব চ্যুজি..... আমার বেশির ভাগ পোস্টই কোন বিষয় শেয়ার করার মত।

তবে, আপনার এই পোস্ট পড়ে একটা স্মৃতি মনে পড়ছে..... সেটা এক সময় লিখব ইনশা আল্লাহ।
উত্তর দিনঃ



বাতিল ব্যক্তিবলেছেনঃ
১৫ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৫৪


আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
১১ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:১৮
পড়লাম । হুমম ভাল লাগল বরাবরের মতই ।
কোন কোন সময় ধন্যবাদ যেন ছোট মনে হয় । তারপরেও ধন্যবাদের ভাষা ধন্যবাদেই ।

উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৫ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩৯


"মৌলিক পোস্ট আমি দিতে পারিনা" - কথাটি মানা গেল না।

@মাহমুদ।

ধন্যবাদ বাতিল ব্যক্তি।
উত্তর দিনঃ



বাংলার মাটিবলেছেনঃ
১৫ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫০


পৃথিবীতে এখনো মানুষ আছে ।
লেখক বলেছেনঃ
১৫ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫৬
তাই। ধন্যবাদ।



কাকটারুয়াবলেছেনঃ
১৮ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪১


খুব ভালো লাগল । একেই বলে মানুষ মানুষের জন্য..
উত্তর দিনঃ

back up post -2

ততটা সকাল এখন নয়। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে মিনিট দশেকের জন্যে এসেছি ডেস্ক টপের কাছে। মহাকালের অনন্তের তুলনায় এই ক্ষনটুকুর ব্যপ্তি কিছু নয়। তবে গুরুত্বের বিচারে তা অমূল্য - অন্তত আমার কাছে। এই সময়টুকুতে রয়েছে আমার একটি দিনের সমস্ত গতিময়তার চাবিকাঠি। আমার সারা দিনের ভাল লাগা, উদ্দীপনার সমস্ত উৎস হয়ে থাকে মিনিট কয়েকের এই অল্প ক্ষনটুকু।

এই তো তোমাকে অনুভব করছি। তোমার উষ্ণ পরশ আমার ঠোটে এনে দেয় সজীবতা। মনে এনে দেয় তারুন্য। আমি আবার ফিরে পাই জীবনকে - কাজের উদ্দীপনাকে। সহস্র কাজের ফাকে, ব্যস্ততার গভীরে ফল্গু ধারা হয়ে আমায় সতেজ করে দেয়ার মাঝে তোমার সার্থকতা। দ্বীপ নিজেকে পুড়িয়ে আলো জ্বলায় আর তুমি নিজেকে বিলিয়ে সজীবতা এনে দাও আমার মাঝে। যতবার তোমার পরশ পাই, ততবার আমার ক্লান্ত পৃথিবী জেগে উঠে নতুনের বারতায়। যেন শুরু হয় আমার নূতন জীবন। আমি অনুভব করি তোমার প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি মাত্রা।

শেষ হয়ে গিয়েছ তুমি। শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আমি তাকিয়ে রয়েছি তোমার দিকে। শূন্য খালি চায়ের কাপ - তুমি সার্থক ভাবেই আমাকে দিয়েছ বেচে থাকার উন্মাদনা। আমি ভুলে গিয়েছি আমার ক্লান্তিকে, আমার দুর্বলতা। আর দশটি দিনের মত আজকের দিনটি আমি তোমাকে দিয়ে শুরু করেছি। তুমি নি:শেষ হয়ে যাও নি। তোমার রেশ আমি ধরে রেখেছি নিজের মনে।

"চা" - আমার প্রিয় সাথী, প্রিয় বন্ধু, প্রিয় সহকর্মী। তোমার নীরব অবস্থান আমার প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে রয়েছে। তোমার প্রতি ভালবাসার এই অনুভবকে ব্লগের পাতায় জীবন্ত করে ধরে রাখলাম আজ।

(ব্লগার চতুরভূজকে উৎসর্গ করে। যিনি প্রথম "চা" নিয়ে নিজের ভাল লাগা ব্যক্ত করেছিলেন সামহোয়ারে)



পড়েছেনঃ ২০৭জন মন্তব্যঃ ৪০টি
পোস্ট রেটিং(২.৮/৬৫)

ভোরের কোলাহলবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ সকাল ৮:৩৩


চমৎকার একটি লেখা দিয়েছেন। আমি অবিভূত হয়ে পড়লাম। ধন্যবাদ আপনাকে। চতুরভুজের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। আড়াই মাস হয়ে গেল তার কোন দেখা নেই।
ওদিকে ফারজানা মাহবুবাও ব্লগিং ছেড়ে দিয়েছেন।
উত্তর দিনঃ



ভালবাসাবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ সকাল ৮:৩৭


ধন্যবাদ সুন্দর লেখা উপহার দিয়ার জন্য ।
উত্তর দিনঃ



বিপুলবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:৫২


চায়ের আডডায় বসা হয়না অনেক দিন।কাজের চাপে রাস্তা ঘাটে থেমে চায়ের সাধ নেয় প্রতিদিন কিন্তু আমার মায়ের হাতের বানানো চায়ের সাধ পায় না কোথাও।মা মারা গেছেন অনেক দিন।চায়ের কথা বলে আপনি আমার মায়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন।ধন্যবাদ আপনাকে এই কাব্যিক ভাবে চা নিয়ে অদ্ভুদ সুন্দর লেখার জন্য
উত্তর দিনঃ



সৈয়দ জামানবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৯


ধন্যবাদ চমৎকার লেখা উপহার দেয়ার জন্য ।



উত্তর দিনঃ



রাতের মুসাফিরবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫৮



সুন্দর লেখা। খুবই ভাল লাগলো ভাইয়া, আপনাকে ধন্যবাদ।
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:২১


It's Great ! আপনার জন্য ৫এর বেশি থাকলেও দিতে কার্পন্য করতাম না।
উত্তর দিনঃ



কাকটারুয়াবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩


অসাধারন !
আপনি কিন্তু থামবেন না । কলম চালিয়ে যান ।আর হ্যা পুরোনো টপ রেটিং লিখাগুলো
হটানো উচিৎ ,কারণ ওরা এখন আর প্যাঁচালীতে আর আসে না । আপনার ২০আছে
আমি ৫ দিয়ে দিলেই আপনি চলে যাবেন টপ রেটিং তালিকায় । ৫ কেন সম্ভব হলে
আমি ১০ই দিতাম !
ধন্যবাদ আপনাকে ।
উত্তর দিনঃ



ভোরের কোলাহলবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৪৭


সবাই রেটিং করলে এই লেখাটা টপ রেটেড লিস্টে থাকতে পারতো।

(রাতের মুসাফির ভাইয়া পেলেন কোথায়?)
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৭


আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সবাইকে কিছুটা হলেও খুশী করতে পেরেছি বলে ধন্যবাদ।
উত্তর দিনঃ



আসকবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ রাত ১১:১২


আপনার লেখা আমারো ভালো লেগেছে।আপনাকে ৫ রেটিং দিলাম।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৬ই মে, ২০০৮ রাত ১১:১৬


আপনাকেও ধন্যবাদ আসক। রেটিং পেয়ে খুশী হইনি - এটা বললে মিথ্যা বলা হবে। স্বীকৃতিটুকু সবার ভাল লাগে। আমিও তার থেকে আলাদা নই।

কাকটারুয়া, ভোরের কোলাহল আর আশাবাদী মানুষের জন্য স্পেশাল ধন্যবাদ - আমার লেখায় নিয়মিত কমেন্ট করার জন্য। এটি খুব প্রেরনাদয়ক।
উত্তর দিনঃ



বিপুলবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০৩


উম্মু আপা.আপনার ইমেইল অথবা মোবাইল নাম্বার পেলে অবশ্যই আমার টুকটুকে কন্যার ছবি পাঠাবো।ভালো থাকবেন আপনি
উত্তর দিনঃ



আওরঙ্গজেববলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৪১


সুন্দর।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৪৯


ধন্যবাদ আওরঙ্গজেব ।

আপনার রাজকন্যার ছবি আমরা সবাই দেখলে ভাল হত না? সবাই একসাথে মুগ্ধ হতাম!!! @বিপুল।


উত্তর দিনঃ



বৃত্তবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৪


চতুরভুজ! হাহ!
উনার সাথে কোনভাবেই কন্ট্যাক্ট করতে পারছি না।
চমৎকার!
ভালো লেগছে। আপনাকে এখানে দেখে হয়ত এখানে আবার অ্যাক্টিভ হব!
উত্তর দিনঃ



বৃত্তবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭


ফারজানা মাহবুবার সাথে আমার কন্ট্যাক্ট নেই। উনাকে এখানে আসতে বলা যায় না?
একটু ভেবে দেখবেন কি? সেই সাথে সন্ধ্যাবাতি, বিবেক সত্যি, মীরা, শাওন, ত্রিভুজ...মেহরাব শাহরিয়ার...
আরও অনেকে!
আমরা কি এখানে ভালো ব্লগিং শুরু করতে পারি না?
উত্তর দিনঃ



আশরাফবলেছেনঃ
৮ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪৯


ভাল লাগলো।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৯ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৪


ফারজানার সাথে যোগাযোগ করব। তাকে নিয়ে সামহোয়ার ব্লগে এখনও তোলপাড় চলছে। সন্ধ্যা কলম বিরতি নিয়েছে। মুনিয়া প্রতিবাদ পোস্ট দিয়েছে।

এটা মেনে নেয়া যায় না। পিয়াল যা ইচ্ছা তাই করবে আর "ইয়েস বস" মডারেশন তাতেই কাত হবে - এ কি আজব ব্যপার?

ওয়েট এন্ড সি।

আর চতুরভূজের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। দুঃখজনক। @বৃত্ত

আশরাফ ভাইকে ধন্যবাদ।
উত্তর দিনঃ



মননশীলবলেছেনঃ
১০ই মে, ২০০৮ ভোর ৬:০৯


ওয়াও !! আপনার বর্ননা তো চতুর্ভজের চেয়েও প্রাণবন্ত!
উত্তর দিনঃ



হ্যারি সেলডনবলেছেনঃ
১০ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০


আব্দুল্লাহর মা, কেমুন আছেন? আব্দুল্লাহ কেমুন আছে?

সামহয়ার থেকে বিতারিত সবাই কি এইখানেই আসবে? তাহলে ত প্যাঁচালী জমবে ভাল।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১০ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৫০


আছি ভাল। আর কোথায় যাব? যাওয়ার জায়গা কি খুব বেশী?

প্যাচালী জমবে কিনা জানি না। তবে আর কোন চয়েস নেই।
@হ্যারী সেলডন।
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৪৭


এক ভদ্রলোক জীবনটাকে ব্রিফকেসে ভরে ব্লগে পেশ করেছিলেন, আপনি এবার চায়ের কাপের মধ্যে জীবন টাকে উপস্থাপন করলেন। ঠিক যেন ম্যাচের কাঠির মধ্যে মসলিন শাড়ি।

সামনে আবার কে কবে আংটির মধ্যে জীবন ঢুকিয়ে ফেলেন কে জানে।
উত্তর দিনঃ



ভোরের কোলাহলবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ রাত ২:৪৩


সোহেল কমেন্টে বস।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭


সোহেল, ব্রিফকেসের কাহিনীটা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই লেখকের লেখা আর পাই না। খুব মন খারাপ হয়ে যায়।

কবে উনার লেখা পাব।
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
১২ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:০০


আমি সেই লেখকের লেখা আর পান না! ! !

আমি তো প্রায় প্রতিদিন প্যাচালিতে তার একটা করে লেখা দেখি


হুমম, আপনার ভেতরে এখনও একটু অন্ধকার রয়ে গেছে দেখছি
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
১২ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:০১


'আপনি'
উত্তর দিনঃ



কাকটারুয়াবলেছেনঃ
১৫ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৭


"বালকের বয়স এগার। আমাকে বুড়ী করে দিয়েছে। "

১১বছরের বাচ্চার মায়েরা বুড়ী নয় , ছুরি রয় ।




উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৭ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৩৫


হাহ হাহ। ভাল বলেছেন কাকটারুয়া। তবে বুড়ি হওয়াটা ততটা কষ্টের নয়। আফটার অল মাতৃত্বের বুড়ী।
উত্তর দিনঃ



অবলেছেনঃ
৭ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৩


খুব ভালো লাগল।
লেখক বলেছেনঃ
২৩শে জুন, ২০০৮ ভোর ৫:১৭
ধন্যবাদ



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৩৫


আসসালামু আলাইকুম

আপনার অনেকগুলো পোষ্ট আমি পরীক্ষার মধ্যেই পড়েছি । কিন্তু লগইন না করায় কমেন্ট করিনি । এখন হয়তোবা ধারাবাহিক কিছু কমেন্ট করে ফেলতে পারি টাইমিংএর অসামন্জস্যতা ভাববেন না

* চতুরভূজের সেই পোষ্টটিতে বলেছিলাম, চা পছন্দ না করলেও এত সুন্দর করে লেখার জন্য ৫ দিলাম । আর আপনার এই পোষ্টে যে কি বলবো ।.।.।.।.।.।.।.

"লেখাটা অস্বাভাবিক সুন্দর হয়েছে"।.।.।.

চা যেহেতু খেতে পারিনা, তাই পরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে কোল্ডড্রিংকস দিয়ে চা এর কাজ চালিয়েছি । মানে চা যেসব কাজ করে আমার ক্ষেত্রে কোল্ডড্রিংকস ও একই কাজ করে হয়তো হাসবেন শুনে।.।.।. কিন্তু।.।.।.

আমার জুনিয়র রুমমেটটা অবশ্য ওলট পালট হয়ে হাসছে এই কথা শুনে।.।.।. চা-না খাওয়া নিয়ে ভালো যন্ত্রনায় আছি
উত্তর দিনঃ



যীনাতবলেছেনঃ
১৭ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮


দেরী করে ফেললাম পড়তে। সুন্দর পোস্ট; ভাল লাগল।
উত্তর দিনঃ



ইয়ো ইয়ো ঢাকাবলেছেনঃ
১৮ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৫৮


আমি লিখতে পারিনা,আমাকে শেখাবেন?খুবই চমৎকার আপনার সব লিখা।
উত্তর দিনঃ



আলু বেপারীবলেছেনঃ
২৩শে জুন, ২০০৮ রাত ৩:৪০


মাইরি বলছি সুন্দর অইছে !
লেখক বলেছেনঃ
২৩শে জুন, ২০০৮ ভোর ৫:১৭
ধন্যবাদ।



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
২৩শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯


বিবেক সত্যি, সামহোয়ারে করা কান্ড দেখলাম। সব লেখার লিংক সেখানে।

তবে আমার প্লান অনেক বড়। ভাল কিছু লেখা লিখে বই বের করা। তবে সময়ের বড় অভাব। প্লান পর্যন্তই।
উত্তর দিনঃ



ফাহিম মুরশেদবলেছেনঃ
৩রা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:১৬


খুবই সুন্দর হয়েছে ভাইজান..... আশাকরি আরও খুব ভাল ভাল লেখা উপহার দিবেন...
লেখক বলেছেনঃ
৯ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৩
ধন্যবাদ।



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৩ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:১৫


সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
উত্তর দিনঃ



চাঙ্কুবলেছেনঃ
১৭ই জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৩৯


সুন্দর লেখা
লেখক বলেছেনঃ
১৭ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০০
ধন্যবাদ।



বর্ষার অশ্রুবলেছেনঃ
৩০শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫


চমৎকার লেখা। এমনভাবে লিখেছেন যে প্রথম এক দু লাইন পড়ে বোঝা যায় না। আসলেই ভালো লেখা।
লেখক বলেছেনঃ
৩০শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।



আঃসভানেত্রীবলেছেনঃ
৮ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৭


ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেনঃ
৯ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৩
ধন্যবাদ।



রডডেনড্রনবলেছেনঃ
১১ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৫:২৮


লেখাটি ভালোই । বই বের করলে বলবেন কিন্তু।
উত্তর দিনঃ

back up post -1

শুকিয়ে যাওয়া পদ্মার পাড়ের ছিমছাম ছবির মত একটি গ্রাম। সেদিনের সকাল অন্য দশটি দিনের সকালের চেয়ে কিছুটা আলাদা। সকাল থেকে মাতব্বরের বাড়ীর সামনে জটলা - সালিশ বসেছে। দিনমজুর হাসান আলীর চৌদ্দ বছরের মেয়েটা জড়সড় হয়ে এক কোনে দাড়িয়ে আছে। ঘটনা আর কিছু নয়। মাতব্বরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর ব্যবসায়িক অংশীদার তৈয়বের বাড়ীতে কাজ করত মেয়েটি। তৈয়বের নষ্ট স্বভাবের কথা বাবা জানতেন না। ফলশ্রুতি যা হবার তাই হল। ঘটনা ঘটার পর হাসান পায়ে ধরল মাতব্বরের।

"ঘটনা ভুইলা যা। না হলে বিপদ আছে।" মাতব্বর হুশিয়ারী দেয়।

"আমার একটাই মা মরা মেয়ে। আপনারা বিচার না রলে কোর্টে যামু।" হাউ মাউ করে কাদতে থাকে হাসান।

"যা।" নির্লিপ্ত উত্তরে তাড়িয়ে দেয় হাসানকে।

হাসান যে সত্যিই যাবে তা ভাবে নি মাতব্বর। একদিন হঠাৎ তৈয়ব এসে হাজির।

"আমি আর তুমি এক সূতায় গাথা, তা তো জানো। আমার বিপদ মানে তোমারও বিপদ।" তৈয়ব শুরু করে।

"তা তো জানি। সরাসরি কথা বল।" মাতব্বর জবাব দেয়।

"পুলিশ আসছে। হাসানের মেয়ের ঘটনা নিয়ে ঘাপলা করতে চায়।" তৈয়ব বলে।

"কি বলছ?"

ঘটনা খুলে বলে। এটা যে এতদূর যাবে তা কেউ ভেবে উঠতে পারে নি। কি সব নারী সংগঠন গুলো নাকি উঠে পড়ে লেগেছে।

"দেখি কি করতে পারি।" মাতব্বর জবাব দেয়।

অবশেষে এই সালিশের আয়োজন। মাতব্বরের ডান পাশে আছেন ইমাম - যার বেতন আসে মাতব্বরের দেয়া বিশাল অংকের চাদা থেকে। যদিও গতকাল অনেকটা খোলামেলা ভাবেই হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে, তাও মাতব্বর ঠিক ভরসা করতে পারছেন না। যদি বেকে বসে ইমাম।

গলা খাকারি দিয়ে মাতব্বর শুরু করে ভাষন।

"বুঝলা মিয়ারা। আমরা সবাই মুসলমান। ইসলামে এই জ্বিনা হইল গিয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমরা সবাই এইডার বিচার চাই। কি কও।"

একটু থামে মাতব্বর। ইমামের দিকে ফেরে। ইমাম সাহেবও শুরু করেন বয়ান। সারমর্ম হল মেয়েটি যেহেতু স্বীকার করেছে, তাই তাকে বেত্রাঘাত করতে হবে। তৈয়ব যেহেতু স্বীকার করে নি এবং কোন সাক্ষীও নেই, তাই তার কোন শাস্তি নেই। তবে তাকে পাচশত টাকা জরিমানা করা যেতে পারে।

মাতব্বরের চোখ হুশিয়ারী দেয়। এই রায় মেনে নাও তো ভাল। নইলে কাল যে বেচে থাকবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। সে ভাষা আর কেউ না বুঝলেও হাসান বুঝতে পারে।

রায় শুনেও মেয়েটি চুপ করে দাড়িয়ে থাকে। সে ইতিমধ্যে বুঝে গেছে এই তার পাওনা। হাউমাউ করে কাদতে থাকে হাসান।

রায় সময় মত কার্যকর হয়।

গ্রামসুদ্ধ মানুষ দাড়িয়ে থাকে। দেখে সপাং সপাং করে দেয়া বেত গুলো। সেগুলো চামড়া কেটে বসে যায় মেয়েটির শরীরে।

পেপারে ছাপা হয়। আমরা শুধু দেখি। দেখি। দেখি।

দেখে দেখে আমরা অভ্যস্ত। আমাদের মনে অনুভূতি জন্ম নেয় না। মেয়েটা যদি কখনও বা কাদে, আমরা ধমক দেই, "এই ছেমড়ি, চুপ।" আমরা বিরক্ত হই।

আমি থামলাম এখানে। আপনারা বলবেন, এ আমার কল্পনা। আমি লেখক হয়ে কল্পনা করি সবকিছু। আমি পৃথিবীকে দেখি আমার কল্পনায়। আমি নিজের মত করে সাজাতে চাই আমার কথামালাকে।

সেই সত্য যা রচিবে তুমি।
কবির মনোভূমি যে রামের জন্মস্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য।

সত্যিই কি তা আমার কল্পনা?

কি করে হয় তা।

আমি কি করে ভুলতে পারি সেই চোখ আর সেই মুখ।

আমি যখন সিক্সের ছাত্রী তখন আমার ক্লাশমেটের কাছ থেকে শুনে তার বোনের বাসায় যাই শুধু সেই মুখটিকে দেখার জন্য। কতদূর আমাদেরকে সেদিন হাটতে হয়েছে। কয়টি সরিষা ক্ষেত আমাকে পার হতে হয়েছে। আমার বান্ধবী বলছে, "এই তো আর বেশী দূরে নয়।"

"দেখ, দেরী হলে আম্মা মারবে।" আমি জবাব দিচ্ছি।

"দেরী হবে না।"

আমাদের সে ছেলেমানুষী কষ্ট তোমার হৃদয়ের নীল ব্যথাটিকে কি অনুভব করেছিল? তুমিও তো ছিলে সিক্সের ছাত্রী। তবে তোমার জীবনটা কেন উল্টিয়ে গেল।

"এই আয় রান্না ঘরে আয়।" বান্ধবী নীলা ডাক দেয়, "মেয়েটা যাতে না বুঝতে পারে।"

আমরা দাড়াই রান্না ঘরে। নীলার বোনের সাথে কথা বলি। আড় চোখে দেখে নেই একটি মেয়েকে - যার চোখে মুখে নীল বেদনার অসহনীয় অভিব্যক্তি।

এরপর ছুট দেই বাসায়। আম্মা মারবে কিনা সেই চিন্তা মাথায়।

কত বছর কেটে গিয়েছে। বড় হয়েছি নিজের অজান্তে। সিক্সে পড়া অবস্থায় যা বুঝিনি, এখন তা বুঝতে পেরেছি। তোমার চেহারার বেদনা আমার চোখে সেদিন বিষ্ময়কর লেগেছিল। বয়স কম থাকায় এমনটি হয়েছিল। আমার বান্ধবীর বোন, যিনি মহিলা পরিষদের সক্রিয় কর্মী, তিনি তোমাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তোমার অধিকার হরনকারীদের বিচার করতে চেয়েছিলেন। তিনি সফল হয়েছেন কিনা জানিনা। সে বয়সে এ আগ্রহ থাকে না।

এখন আপনারা পাঠকরা জবাব দিন। আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা - এটাও কি কল্পনা।

এটা তো কল্পনা নয়।

এটা তো আমার ছেলেবেলার ছবি। আমার মানসপটে আকা ছবি। এতো শ্বাশত বাংলার নারীর ছবি। এবার কি বলবেন আপনারা। এবার তো আপনাদের চুপ হতে হবে। এবার তো স্বীকার করবেন আমি মিথ্যা বলিনি। আমার লেখনী কোন অতিরন্জ্ঞন করে নি। আমি তুলে ধরেছি একটি অতি সাধারন গায়ের বালিকাকে। তুলে ধরেছি একটি সাধারন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনাকে। কারন এ যে আমার নিজের দেখা থেকে আলাদা নয়। আমিই তো তাকে মাইল হেটে দেখতে গিয়েছিলাম এক বিকেলে।


আমি তো সামহোয়ার নামক একটি নষ্ট ফোরাম থেকে কবেই চলে এসেছি।

তবে সেটা কেন আমাকে এখনও দুঃস্বপ্ন হয়ে তাড়া করে?

কেন, এখনও সেই নষ্টামির ছায়া আমাকে ঘিরে রাখে?

কেন ফারজানাকে করা পিয়ালের কমেন্ট দেখে আমি বমি করতে ছুটে যাই বাথরুমে? এটা কি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা? এটাই কি চলছে না দিনের পর দিন?

কারন আমি তোমাকে ভুলতে পারি না। ক্লাস সিক্সে পড়া অবস্থায় তোমাকে দেখেছি। তোমার বেদনাকে দেখেছি। বুঝতে পারি নি বয়সের কারনে। কিন্তু গেথে গিয়েছে আমার মনে। আজও আমি যখন ওসব কমেন্ট দেখি তখন তোমার মুখটা আমার চোখের সামনে চলে আসে। আমি আনমনে তোমাকেই ভাবতে থাকি।

আমি একদিন মন্তব্য করেছিলাম, সামহোয়ার বাংলাদেশকে তুলে ধরেনা। সেখানে মাটির গন্ধ পাওয়া যায় না। আজ মনে হচ্ছে কথাটা আংশিক সত্য। পুরো সত্য নয়। সামহোয়ার আসলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকেই তুলে ধরে। এই বাংলার মাটিতেই তো ধর্ষকের বিচার হয় না। বরং হয় ধর্ষিতার বিচার। এই বাংলার মাটিতেই ধর্ষক এসে দাবী করে "নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি নি।" ধর্ষিতার আচরনই সবকিছুর জন্য দায়ী। আমরা তাই বিচার করি ধর্ষিতা মেয়েটির।

সামহোয়ার তো এদেশেরই একটি প্রতিষ্ঠান। তাই সামহোয়ার যখন পিয়ালকে তিন দিন নামক হাস্যকর ব্যান করে ফারজানার লেখা সরিয়ে তাকে পুরো ব্যান করে তার বিরোধীদের ব্লগে তাকে নিয়ে মস্করা করার সুযোগ দেয় - তখন আমি আবারো উপলবদ্ধি করি এই সামহোয়ার বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এই সামহোয়ারে এস্কিমোরা যখন ফারজানাকে তামাশা করে তখন আমি বুঝি সামহোয়ার বাংলাদেশের প্রতিভু।

তবে আমি নৈরাশ্যবাদী নই। আমি আমার সন্তানদের দিকে তাকাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই দিন বদলাবেই। এই দিন পৌছুবে সেই দিনের কাছে।

অপেক্ষা। অপেক্ষা। আর অপেক্ষা।









পড়েছেনঃ ২২৭জন মন্তব্যঃ ৪৪টি
পোস্ট রেটিং(৩.০/৬৩)

বৃত্তবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:২৮


কী বলব বলুন। খুব খারাপ লাগল লেখাটা পড়ে। আসলেও। আমি সা.ইনের এই অবস্থা দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছি। আসলে কি, যেখানেই শান্তি খুঁজতে গেছি- সেখানেই ফেইল করেছি- আল্লাহ, নামাজ এবং কোরআন ছাড়া।
আপনি কি আমাকে ইয়াহুতে একটু অ্যাড করতে পারবেন?
me_bigfeet@yahoo.com
উত্তর দিনঃ



আশরাফবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২


আপনার লেখা পড়ার জন্য প্যাচালীতে আসা শুরু করবো ভাবছি। একসময় এখানে লিখতাম। এখন লিখা হয় না। তবে আবার শূরু করবো এখানে।
উত্তর দিনঃ



দুলালবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২


গঠনাটি খুবই বেদনা দায়ক ।
ধন্যবাদ
উত্তর দিনঃ



বাতিল ব্যক্তিবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪১


সহমর্মিতা
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮


@উম্মু আবদুল্লাহ- আপনার লেখা আমি সবসময় খুব ধৈর্য্য নিয়ে মন দিয়ে পড়ি। আজকেও পড়েছি। সামহোয়ারে আমি ছিলাম ছিলাম না । আমার ব্লগিং শুরু এখানেই,তবে বুঝতে পারি সামহোয়ারের অনেকেই এখানেই আসছে স্বস্তির জন্য। কতদিন টিকে থাকে তা ভেবে দেখার বিষয় ?
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ৮:১৪


আশাবাদী মানুষ, আমি তো জটিলতম এই ব্যাপারটি দুই মিনিটে বোঝাতে পারব না।

ফারজানা বিশেষ মহলের বিরাগভাজন হয় এই পোস্টের জন্য:
http://www.somewhereinblog.net/blog/farjanamahbubablog/28780444

পরবর্তীতে পিয়াল তাকে নিয়ে এই পোস্ট দেয়:

http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/28790465

ওখানে একটা মোছা কমেন্ট পাবেন।

সেটা নিয়ে কান্ড অনেক।

ফারজানার জবাব পাবেন:

http://www.somewhereinblog.net/blog/farjanamahbubablog/28794003

অবশ্য সমস্ত কিছু এই কয়টি পোস্ট পড়ে বোঝা সম্ভব নয়।

আপনাকে একটি প্রশ্ন করছি। তার জবাবের মধ্যেই সমস্ত কিছুর জবাব পাওয়া যাবে।

রাজাকার প্রতিহত করার জন্য ২৮ শে অক্টোবরের ঘটনাকে কি জায়েজ করা যায়?

তার জবাব কি হবে?

হ্যা।

না।

নাকি, আপেক্ষিক।

আমি "না" বলেছি, ফারজানা "না" বলেছে।

সেটার কারনে রাজাকারের লিস্টের প্রথম সারিতে চলে এসেছি।
===============================================
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ৮:২২


আমার রাজনৈতিক কোন পরিচয় নেই। তবে আদর্শতো অবশ্যই আছে। ২৮শে অক্টোবরকে মোটেই সমর্থন করিনা । এর অনেক ব্যাখ্যা আছে অল্প সময়ে এর উত্তর সম্ভব নয়।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ৮:২৫


ভাল কথা, আশাবাদী মানুষ। আমি কিন্তু ফালাচির ব্যাপারে ফারজানার অবস্থানের বিপরীত। আমি সমর্থন দিয়েছি সারোয়ার ভাইকে:

http://www.somewhereinblog.net/blog/sarwarchowdhuryblog/28790795

এরকম কয়েকটি ইস্যুতে ফারজানার সাথে দ্বিমত হয়েছে আমারো।
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৩০


ধন্যবাদ আপনাকে।
উত্তর দিনঃ



কাকটারুয়াবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৪৮


সামহোয়ারের গঠনা যাই হোক আপাততঃ আমি সেদিকে যাচ্ছি না ।
আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ ও মৌলবাদি
চরিত্র এবং অসহায় নারীদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য ।

আপনার উল্লেখিত সাইট গুলুতে ও ঢু মারার ইচ্ছা তো রইল -ই ।
উত্তর দিনঃ



ভোরের কোলাহলবলেছেনঃ
৭ই মে, ২০০৮ রাত ১১:৪৭


লেখা পড়ে অনেকক্ষন স্থানু হয়ে রইলাম। মিলাতে চেস্টা করলাম।

উত্তর দিনঃ



রাতের মুসাফিরবলেছেনঃ
৮ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৪৫


ভাল লাগলো।
উত্তর দিনঃ



আরিশাবলেছেনঃ
৮ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৫


লিখাটা পড়ে খুব দুঃখ পেলাম।বাংলাদেশের মেয়েদের অবসথা সত্যিই খুব দুঃখজনক।
উত্তর দিনঃ



বিপুলবলেছেনঃ
৮ই মে, ২০০৮ রাত ১:২৮


আপনার লেখা পড়ে কি বলবো তা বুঝতে পারছিনা।আমি নিজেও একজন মানবাধিকার কর্মী।কিছুদিন আগে ময়মনসিংহের অস্টধর নামে এক জায়গায় এক বোবা গরীব কিশোরির উপর এক কলেজ শিক্ষক পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিলো আমরা তার উচিত শাস্তি দিয়েছি।আপনার লেখা ঘটনার সময়টা যদি এখন হতো তাহলে আমিই ওর সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম ।
উত্তর দিনঃ



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
৮ই মে, ২০০৮ রাত ২:১২


প্রথম কমেন্টটা আপনার পোষ্টেই করলাম ।

এই পোষ্ট যার জন্য লেখা হয়েছে, সেখানে ম্যাসেজ পৌছে দেয়া হয়েছে ।

http://www.somewhereinblog.net/blog/shondhabatiblog/28795251

http://www.somewhereinblog.net/blog/farjanamahbubablog/28794003

দারুন এই লেখাটার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ...
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
৯ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩


@উম্মু আবদুল্লাহ - আপনার দেয়া লিংকগুলো ২দিন যাবৎ পড়েছি। ওরে বাপরে বিদ্যানের ঠাসাঠাসি সেখানে। ওখানকার কোন মন্তব্য আমি এখানে দিলাম না। এত প্রতিভার(!) ভীড়ে নিজকে ধুলিকনা মনে হচ্ছে । আবেগ যদি বিবেককে এভাবে .....
উত্তর দিনঃ



ফজলে এলাহিবলেছেনঃ
১০ই মে, ২০০৮ ভোর ৫:০৫


এই দিন কখনো সেই দিনের কাছে পৌঁছুবে কি না জানি না, তবে সাধনাটুকু করে যেতে পারি..........
উত্তর দিনঃ



মননশীলবলেছেনঃ
১০ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:৪২


চমৎকার লিখেছেন।

মর্মস্পর্শী!
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০০


ফজলে এলাহি ভাই, মননশীল, বিবেক সত্যি, বিপুল, আরিশা, রাতের মুসাফির, ভোরের কোলাহল সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মন্তব্যের জন্য।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ রাত ১২:২৩


@আশাবাদী মানুষ
বিদ্যান কি আপনি নিজেও কিছু কম? কেন নিজেকে লুকোতে চান? আমরা সেটা হতে দেব না।

আসলে সামহোয়ারে এরা কম বয়েসী। ফলে আবেগটা এদের মাঝে একটু বেশী। কখনও কখনও খুব বাড়াবাড়ি মনে হয়। বিশেষত নোংরামী ভীষন কুৎসিত লাগে।
এখানে খুব ভাল লাগে ব্লগিং করতে।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২০


বিবেক সত্যি, অনেকদিন কোন খবর নেই। আওয়াজ দাও।

আর অনেক দিন আগের একটা কথা। আর, সি, সি পরীক্ষার গ্রেড কেমন হয়েছিলো? বুঝতে পারছ আমি কোন পরীক্ষার কথা বলছি।
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৩


ভদ্রমহিলা এত বড় লেখক কবে হলেন টের পেলামনা। আমি তো লেখা পড়ে তাজ্জব
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
১১ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯


আমাদের স্কুলের প্রধান ছিলেন একজন মহিলা। তবে নাম ফলকে লেখা ছিল- প্রধান শিক্ষক।


লেখিকা না বলার ভুল ধরবেননা আশা করি।
উত্তর দিনঃ



ফজলে এলাহিবলেছেনঃ
১৪ই মে, ২০০৮ সকাল ৮:০৬


আপনার নতুন লেখালেখি দেখছি না। ব্যস্ত কি?
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৪ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৫


বৃষ্টি হয়ে বেসমেন্ট ফ্লাডেড। কম্পিউটার সহ সবকিছু তুলতে হয়েছে। এখন অন্য জায়গা থেকে প্যাচালী দেখছি। কবে সব ঠিক করব কে জানে। ভাল থাকবেন। দোয়া রাখবেন। @ফজলে এলাহী
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৭ই মে, ২০০৮ রাত ৯:২২


সোহেল, আমিও একসময় ব্রীফকেসের লেখা পড়ে তাজ্জব হয়েছিলাম।
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
২০শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭


@উম্মু আবদুল্লাহ- আমি আগেও লিখেছিলাম ২৮শে অক্টোবরকে সমর্থন করিনা ।
এখনও করিনা কিন্তু যাযাদির এই রিপোর্ট কেমন রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি । আজকে রিপোর্টটা দেখলামতো তাই আপনার এই ব্লগে আবার আসলাম । কিছু মনে করবেন নাতো ?
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
২০শে মে, ২০০৮ রাত ৯:১৩


খুশী হলাম লিংক দেয়াতে।
শফিক রেহমান কেন যায় যায় দিনে নেই সেই রহস্য এট লিস্ট উদঘাটিত হল। এটাই কি কম পাওয়া?

আর ২৮ শে অক্টোবর। সে নিয়ে না হয় অন্য পোস্টে আলোচনা করব আমরা। @আশাবাদী মানুষ
উত্তর দিনঃ



আশাবাদী মানুষবলেছেনঃ
২০শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৩


@উম্মু আবদুল্লাহ- একদম খাটি কথা " শফিক রেহমান কেন যায় যায় দিনে নেই সেই রহস্য এট লিস্ট উদঘাটিত হল।"
সে কারো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিল তা আর হলনা । ২০০৬ সালে Channel i তে এই রকম একটা ইংগিত দিয়েছিল ।
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
২৫শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৩০


আমাকে মনে করছেন ব্রিফকেসের লেখক???


কোথায় লিয়াকত আলী আর কোথায় জুতার কালি:-
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
২৫শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৩২


তাই মনে করেছিলাম। যা হোক, মেনে নিলাম আমি অন্ধকারের পাখী। এবার ভালয় ভালয় পরিচয় দিন। @সোহেল
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
২৫শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৩৭


ভুলেই যখন গেলেন, জোড় করে কারো মনে স্থান করতে চাওয়ার কি মানে আছে। সামনের লেখালেখি দেখলে হয়তো মনে পড়তে পারে।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
২৫শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৩৯


কাউকে ভুলিনি। ভুলিনি বলেই এভাবে সবাইকে প্যাচালীতে ডাকাডাকি করছি। আমি তো আমার পরিচয় গোপন রাখিনি। কিন্তু সেই একই ব্যবহার আমি পাই নি। @সোহেল।
উত্তর দিনঃ



সোহেলবলেছেনঃ
২৬শে মে, ২০০৮ রাত ২:৩৪



উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
৩১শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৩৯


সোহেল, ইকোনটা আমি কম বুঝি।
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১


বিবেক সত্যি, অন লাইনে আছ দেখি!!!

আর সি সির গ্রেড কি হয়েছিলো???

আমার অনুমান কি ঠিক ছিল?
উত্তর দিনঃ



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩


হা হা..

অরপির পোষ্টের সেই কাউন্টার পোষ্টটার কথা বলছেন ?

আমার জীবনে আমার মা ছাড়া সাধারনত আর কারো দোয়া বা ...... কোনটাই কখনও তেমন একটা টের পাইনি ।

গ্রেডে আর যাই হোক, ওই পোষ্টের কোন প্রভাব পড়েনাই

উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০৩


"অরপির পোষ্টের সেই কাউন্টার পোষ্টটার কথা বলছেন ?"

আরে ধুর। সেইটা না। ঐ যে একবার চার ক্রেডিটের আর সি সি পরীক্ষার কথা বলে ব্লগ বিরতি নিয়েছিলেন। সেইটা। আমি বলেছিলাম, আর সি সি কোন পরীক্ষা না। জবাব পেয়েছিলাম, আর সি সি পরীক্ষা নাকি খারাপ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, গ্রেড পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। সেইটা।

গ্রেডটা জানতে চাই। আমার ধারনা গ্রেড ভাল হয়েছিল।

আর অরপিকে তেমন একটা সাম ইনে দেখা যায় না। ব্যান নাকি?


উত্তর দিনঃ



বিবেক সত্যিবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৬


সবসময় যেমনটা হয় , তেমন ই হয়েছে

অরপির ব্যাপারটা আমি বুঝেছি । ফারজানা আপুকে গালি দেয়ার ব্যাপারটা নিয়ে সে বেশ ইমেজ সংকটে আছে । অবশ্য তার "জামাত-শিবির বিরোধি" ইমেজ ছাড়া অন্য কোন ইমেজ কখনও ছিলো ও না । তবে এবারে ব্যাপারটা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে । নরাধমের (হ্যা.সেল্ডন) মত ব্লগার ও মুনিয়ার পোষ্টে শেষ পর্যন্ত নিন্দা জানাতে বাধ্য হয়েছে ।

তার ইমেজ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টও বেশ হাস্যকর । ব্লগের জন্মযুদ্ধ গ্রুপটাকে ফোকাস করে মোটামুটি চেষ্টা করে যাচ্ছে সে । আর আমি মুখ টিপে হাসি তার কান্ড দেখে




"হ্যারি সেলডন বলেছেন: অমি পিয়াল কি বলেছেন সেটা এখন জানলাম। আমি এটা একদম মানতে পারছিনা। অমি পিয়ালকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবেগের জন্য। কিন্তু এটা খুবই খুবই বাজে হয়েছে।"

"রন্টি চৌধুরী বলেছেন: অমি রহমান পিয়ালের মন্তব্যের প্রতিবাদ। এটি তিনি করেছেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। একটি ঘৃনিত কাজ। তিনি এমন একটা কাজ করলেন?"


মদন বলেছেন: পিয়াল যদি সত্যিই এমন মন্তব্য করে থাকে তবে তার প্রতি তীব্র ঘৃনা।

বোঝেন অবস্থাটা ....
উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
১৪ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৪


হ্যা। আমি ঐ ব্যাপারটার খোজ খবর রেখেছি। সন্ধ্যাবাতি, মুনিয়া সহ সবার পোস্টে সবার কমেন্ট প্রতিটা পড়েছি।

ন্যুনতম বিবেক থাকলে সে লোক ক্ষমা চাইত। রাগ ইমনের প্রতি ত্রিভুজের মন্তব্য মোটেও ভালগার ছিল না। ছিল দৃষ্টিকটু। সেটা আবার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে করা। তাও ত্রিভুজ বার বার ক্ষমা চেয়েছে। ত্রিভুজের পারিবারিক শিক্ষা অনেক উন্নত।

মুনিয়া পোস্ট দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে ধন্যবাদ জানানোর কোন ভাষা নেই। ন্যায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হল। দুঃখ এই যে, মডারেটররা ন্যায়ের পাশে ছিলেন না।

এখন উঠছি। বাপ বেটা আসবে দুইটায়। এসেই খেতে বসবে। রান্না শুরু করিনি।

ব্লগে নিয়মিত উপস্থিতি কাম্য। আড্ডা ভাল জমবে। @বিবেক সত্যি।
উত্তর দিনঃ



মাহমুদ রহমানবলেছেনঃ
১৬ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৮


দারুণ পোস্ট, আগে খেয়াল করিনি!

একেবারে অসহায় হয়ে সামহয়ারে দুস্কৃতকারীদের প্রতি মায়া নিয়ে লিখেছিলাম
উত্তর দিনঃ



অবলেছেনঃ
২১শে জুন, ২০০৮ ভোর ৫:১৬


সুন্দর ভাবে মনের কথার প্রকাশ করেছেন। ভালো লেগেছে।
উত্তর দিনঃ



রহস্য বালিকাবলেছেনঃ
২৫শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৩৯


অপেক্ষা করে থাকলে কখনো সমস্যার সমাধান হয় কি না আমি জানি না....
তবে আমরা বাংলাদেশীরা মজ্জাগতভাবে অপেক্ষা করায় অভ্যস্ত। দেশে হিডেন হাংগার হয় তাও অপেক্ষা করি কবে শেষ হবে... আর্মি এসে সরকারে নাক গলায় তাও অপেক্ষা করি... যখন পলিটিশিয়ানরা দুর্নীতি করেছিল তখনও অপেক্ষা করেছি, যখন দুর্নীতিবাজ অদুর্নীতিবাজ নির্বিশেষে জেলে ঢুকালো তখনো অপেক্ষাই করেছি... দুই নেত্রীকে আটকে রাখল অপেক্ষা করেছি... চালের দাম বাড়ল অপেক্ষা করেছি... আলু খেতে বলল অপেক্ষা করেছি.... যতদিন না আলুরও দাম বেড়েছে... দুর্ভিক্ষ হয়ে যায়, অপেক্ষা করি... মানুষ খিদেয় মরে, আমরা অপেক্ষা করি.... আত্মীয় বাড়ি গিয়ে লজ্জায় পড়ে যাই- একী অবস্থা! বেড়াতে এসে লজ্জায় পড়ে যাই- সব বাসায় খাবারের টানাটানি... অপেক্ষা করি...... নারী হয়ে জন্মানোর কারণে অবজ্ঞা পেয়েই গিয়েছি সারা জীবন, অপেক্ষা করেই যাচ্ছি... অপেক্ষা করেই যেতে থাকব....
অপেক্ষা কবে মরন আসে আর অপেক্ষার ইতি ঘটে....

উত্তর দিনঃ



উম্মু আবদুল্লাহবলেছেনঃ
২৫শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:০৫


রহস্য বালিকা, চমৎকার বলেছেন। অপেক্ষার কোন শেষ নেই। আশা নামক সোনার হরিন নিয়ে অপেক্ষা করাতেই যেন আমাদের সব সুখ। আলু খেয়ে অপেক্ষা ভাতের জন্য। আর্মি শাসনে অপেক্ষা নির্বাচনের জন্য। অপেক্ষাতেই মুক্তি, অপেক্ষাতেই সুখ।
উত্তর দিনঃ

Sunday, July 20, 2008

my new site

Salam. This is my first post. It is a test post. Hello hello, microphone testing ......................