End of a Bad Dream
Monday, Apr. 22, 1974
Click This Link
[লেখাটি ছাপা হয়েছিল টাইমসের ১৯৭৪ সালের ২২ শে এপ্রিল সংখ্যায়। লেখাটিতে তৎকালীন ত্রিদেশীয় ত্রিপাক্ষিক চুক্তির কিছুটা মূল্যায়ন রয়েছে। ]
গত সপ্তাহে দিল্লিতে পাচ দিনের তুমুল আলোচনার পরে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ১৯৭১ যুদ্ধের জের হিসেবে চলে আসা দুটি মূল বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌছেছে। এই চুক্তির ফলে তিন দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ফিরে আসল এবং বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের বাধা দূর হল, যা এতদিন পাকিস্তানের অনুরোধে চীন ভেটো দিয়ে আসছিল।
চুক্তির টার্মস গুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কামাল হোসেন, ভারতের শরন সিং এবং পাকিস্তানের আজিজ আহমেদ ঠিক করেন, যার ফলে বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বন্দি ১৯৫ জন পাকিস্তানিকে ক্লেমেন্সি বা উদারতা দেখিয়ে বিচার না করার বিষয়ে সম্মত হয়। আরো ৬৫০০ যুদ্ধবন্দীর (সর্বমোট ৯০০০০) সাথে এই যুদ্ধবন্দীরা পাকিস্তানে ফেরত যাবে, যারা যুদ্ধের সময়ে আটক হয়ে এখনও ভারতের ক্যাম্পে রয়েছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই ধারা গত অগাস্টে শুরু হয়ে এ মাসেই শেষ হবে আশা করা যায়।
যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবী ছেড়ে দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে একটি বড় ধরনের ছাড়। কিন্তু এটা মোটামুটি প্রত্যাশিত ছিল যখন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো গত ফেব্রুয়ারীতে মুসলিম নেতাদের লাহোর সম্মেলনে ঘোষনা দেন যে পাকিস্তান তার পূর্ব অংশের বিচ্ছিন্নতাকে মেনে নিয়েছে। আরো বিষ্ময়কর হল চুক্তিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের দাবী মেনে নেয় যে এই যুদ্ধবন্দীরা যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গনহত্যার সাথে জড়িত ছিল। পাকিস্তান সরকার সমস্ত অপরাধের নিন্দা জানায় এবং গভীর অনুতাপ প্রকাশ করে।
দিল্লী চুক্তি বাংলাদেশে অবস্থানরত ৫০০০০০ বিহারীর ভাগ্যের বিষয়ে কিছুটা অস্বচ্ছ। প্রচুর বিহারী, যারা ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের সময় ভারতের বিহার থেকে এসেছিল, তারা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলে তাদের দুঃখজনক ভবিষ্যৎকে বরন করে নিতে হবে যদি তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে। এদের অধিকাংশই ভীতি এবং মানবেতর অবস্থায় ঢাকা ও অন্যান্য শহরের বাইরে রিফিউজি ক্যাম্পে অবস্থান করছে।
এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ১১০০০০ জন আটকে পড়া বাংলাদেশীকে ফেরত দিয়েছে যারা যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিমে আটকে গিয়েছিল এবং ১৪০০০০ বিহারীকে ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া গ্রহন করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী যারা পাকিস্তানের সরকারের চাকুরে, পাকিস্তানের পূর্ব বাসিন্দা এবং বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্য, তাদের সবাইকে গ্রহন করতে হবে। যাদের অ্যাপ্লিকেশন আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তাদের পুনর্বিবেচনা করার বিষয়ে পাকিস্তান আরো আশ্বাস দিয়েছে। তার মানে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনকৃত বিহারীর সংখ্যা ১৪০০০০ এর খুব বেশী সম্ভবত হবে না। বেকারত্বের ভয়ে পাকিস্তান এর চেয়ে বেশী নিতে ভয় পাচ্ছে।
এক বিশাল ইংগিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আহমেদ দক্ষিন এশিয়ার এক বেদনাদায়ক অধ্যায়কে বন্ধ করার কৃতিত্ব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে। সপ্তাহান্তে মুজিব রাশিয়ায় দুই সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে দিল্লিতে এক সংক্ষিপ্ত সফর করেন। শরন সিং যোগ করেন, বিচার কার্য, ট্রাইবুনাল এবং আমাদের উপ মহাদেশের দ্বন্দ্ব এখন শুধুই অতীত - একটি দুঃস্বপ্ন যাকে ভুলে যাওয়া যায়।
Tuesday, November 17, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment